Sunday, 18 March 2018

প্রকৃতির ব্যতিক্রমী সৃষ্টি জাফলং ও বিসানাকান্দি সিলেট

বরাবরই সিলেট আমার খুবই প্রিয়। সর্ব সাকুল্যে পাঁচ বারের যাত্রায় চোদ্দ দিন সিলেট ঘোরার সুযোগ হয়েছে। তবে সিলেটের সবটুকু দেখা শেষ হয়নি এখনো। তবে, ঘোরার জন্য বর্ষাকাল নিঃসেন্দহে উত্তম সময়। অফসিজনে হোটেল ভাড়া কম পড়বে। পাশাপাশি, পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে। তাই প্রকৃতির সান্নিধ্যে একান্তভাবে সময় কাটানোর সুযোগ বেশি। আর বর্ষাকালে প্রকৃতি যেন নবযৌবনা। আজকের লেখাটির উদ্দেশ্যে হচ্ছে দু'দিনের জন্য যদি সিলেট ভ্রমণে যেতে চান তবে আপনার জন্য এটা একটা সাধরণ গাইডলাইন হতে পারে।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট : প্রকৃতির ব্যতিক্রমী সৃষ্টি রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। বর্ষাকালে পানিতে নিমজ্জিত হিজল, খরচ, বেত, বরুনা আর মূর্তার ঘন ঝোপে আচ্ছাদিত থাকে উপমহাদেশের একমাত্র মিঠাপানির এই জলাবনটি। নিঃশব্দে নৌকাতে ঘুরে অপরূপ প্রকৃতির শীতল বাতাস আর পাখির কলতান আপনাকে বিমোহিত করবেই। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই জলাবনটি। সিলেট শহরের আম্বরখানা রোডের ইস্টার্ন প্লাজার সামনে থেকে লোকাল সিএনজিতে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি 100 টাকার মতো। আর নৌকাতে ভাড়া পড়বে সাতশো থেকে আটশো টাকার মতো। তবে এক নৌকাতে চারজন ঘুরতে পারবেন অনায়াসে।
রাতারগুল ঘোরা শেষে বিসানাকান্দি যেতে হলে আপনাকে এরপর হাদারপার যেতে হবে।

বিসানাকান্দি : মেঘালয় রাজ্যের সাতটি সুউচ্চ পর্বতের মিলনস্থল হচ্ছে বিসানাকান্দি যেখানে অনেকগুলো ঝরণাধারার মিলিত প্রবাহ প্রবল বেগে আছড়ে পড়ে স্নিগ্ধ পিয়াইন নদীর বুকে। শীতল এই স্রোতধারার স্বর্গীয় পাথুরে বিছানায় পাবেন প্রকৃতির মনোরম লাবণ্যের স্পর্শ। পিয়াইন নদীর দুইটি শাখা। একটি পাহাড়ের নীচ দিয়ে গেছে ভোলাগঞ্জ অন্যটি পাংথুমাই হয়ে জাফলং। তবে, হাদারপার থেকে নৌকা ঠিক করার সময় সাধারণত তিনটি স্পটে র জন্য নৌকা ঠিক করা হয়। বড়হিল ঝর্ণা (পাংথুমাই ঝর্ণা), লক্ষণছড়া আর বিসানাকান্দি। তবে, বর্ষাকালে ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা ঠিক করবেন। কেননা, শান্ত পিয়াইন নদী তখন প্রবল স্রোতে অশান্ত হয়ে যায়। আর, এখানে লাইফ সেভিং জ্যাকেট বা এরকম কিছু না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অতঃপর ঘোরা শেষ হলে আবার সিলেট ফিরে আসবেন।

জাফলং : পাহাড় আর পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর অপূর্ব মিলনে সৃষ্ট নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এক তীর্থ ভূমি জাফলং। ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং যা সিলেট শহর থেকে 62 কিলোমিটার দূরবর্তী। দূর থেকে দেখলে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সব পাহাড়গুলো, তার বুক চিরে বয়ে চলেছে ঝর্ণা আর নরম তুলার মতো তার ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘমালা। জাফলংয়ের বুক চিরে বয়ে গেছে দুইটি নদী - ধলাই ও পিয়াইন। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে চোখে পড়বে ডাউকি ব্রীজ। নদী পার হলেই ওপারে খাসিয়াপুঞ্জি (খাসিয়াদের ভাষায় গ্রামকে পুঞ্জি বলে)। সংগ্রামপুঞ্জি যাওয়ার পথে দেশের প্রথম সমতল চা-বাগানটিও একফাকে দেখে নিতে পারেন। জাফলং শীত, বর্ষা দুই ঋতুতেই সুন্দর। তবে বর্ষাকালে পরিপূর্ণ, অন্তত আমর চোখে।

অতঃপর জাফলং থেকে সিলেট ফেরার পথে সারিঘাট নামবেন। এখান থেকে সিএনজি তে করেই সারি নদীর ঘাটে (লালাখাল) যাবেন।

লালাখাল : সিলেট শহর থেকে 35 কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত লালাখাল। নাম যদিও "লালাখাল" কিন্তু এটা কোনো খাল নয়। এটা সারি নদী। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে লালাখালের অবস্থান। লালাখাল শীতকালে ই তার সবটুকু সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়। সারি নদীর গভীরতা অনেক বেশি। তাই বর্ষাকালে নদীতে তীব্র স্রোত থাকে। পাশাপাশি লালাখালের বিশেষত্ব যে কারণে, সেই পানির বিভিন্ন রঙ (নীল, সবুজ, স্বচ্ছ পানি) বর্ষাকালে পাবেন না। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে যদি আলিঙ্গন করতে চান তবে লালাখাল নিঃসেন্দহে আপনাকে বিমোহিত করবে এবং সেটি বর্ষাকালে।

Saturday, 17 March 2018

কম খরচে ভারতে দার্জিলিং ভ্রমণ

দার্জিলিং, বাঙালির স্বল্প সময়ে, সহজে আর স্বল্প ব্যায়ে ভ্রমণের এক অপূর্ব যায়গা। কিন্তু তাই বলে এতো কম খরচে যে পরিবার নিয়ে দার্জিলিং বেড়িয়ে আসতে পারবো ভাবনাতেই ছিলোনা। একা বা বন্ধু-বান্ধব মিলে গেলে আলাদা ব্যাপার। কিন্তু পরিবার নিয়েও যে এতো কম খরচে ঘুরে আসা যায় ছোট্ট ছোট্ট কিছু টেকনিক ফলো করলে আর সাথে বিলাসিতাটা একটু কমালে সেটা এবার ভালোভাবে সিখে এলাম। এবং সেই অল্প খরচে এমন একটা ভ্রমণের পরে টিমের সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এরপর ভারতের যে কোন যায়গায় বেড়াতে গেলে, এই টেকনিকটাই ফলো করবো। তাতে করে অনেক কম টাকায় বেশ ভালোভাবে ঘুরে আসা যাবে।
গত ডিসেম্বরে আমরা তিন পরিবার মিলে গিয়েছিলাম ডুয়ার্স আর দার্জিলিং। ভ্রমণ শেষে খরচের হিসেব করে দেখতে পেলাম, পরিবার প্রতি, পাঁচদিনে মোট খরচ হয়েছে ১৫০০০ টাকা করে! অবিশ্বাস ঠেকেছে প্রথমে হিসেব দেখে, মনে করেছি কোথাও বোধয় ভুল করেছি হিসেবে, তাই অন্য আর একজনকে দিয়ে হিসেব করে দেখলাম নাহ, ঠিকই আছে হিসেব।

মাত্র ১৫০০০/- টাকা খরচ হয়েছে আমাদের তিনজনের পুরো ডুয়ার্স-দার্জিলিং এর যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া আর বিভিন্ন যায়গায় ঘোরাসহ। তবে আফসোস এই খরচটা আরও কমে যেত যদি রংপুর গিয়ে আলাদা মাইক্রো না নিতে হত, বুড়িমারির বাসের টিকেট পাইনি বলে এখানে আমাদের ২৫০০ টাকা বেশী খরচ হয়ে গেছে।
এবার তবে এই গল্পে অন্য কোন কিছুর বর্ণনা বাদ দিয়ে শুধু পুরো ট্রিপের খরচের গল্পটা বলি, কোথাও, কিভাবে আর কত খরচ করেছি আমরা।
ঢাকা থেকে আমরা নন এসি বাসে ৫৫০ টাকা করে বাস ভাড়া দিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। তিন জনের ১৬৫০/- টাকা। রংপুর থেকে ২৫০০ টাকায় মাইক্রো ভাড়া করে দুই ঘণ্টায় বুড়িমারি বন্দর।
পরিবার প্রতি ৮০০ টাকার একটু বেশী। জনপ্রতি ট্র্যাভেল ট্যাক্স দেয়াই ছিল তাই সময় নষ্ট কম হয়েছে। বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বেলা শেষ হয়ে যাওয়া আর ডুয়ার্স আগে যেহেতু যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই তাই ঝুঁকি না নিয়ে একটি জীপ নিলাম ১৫০০ রুপী দিয়ে। পরিবার প্রতি ৫০০ টাকা পড়লো ডুয়ার্স এর লাটাগুড়ি অরণ্যে পৌছাতে।
লাটাগুড়ির নির্জন অরণ্যে পৌছাতে প্রায় রাত হয়ে গিয়েছিল আমাদের। সাথে ছোট বাচ্চা আর ফিমেল মেম্বার ছিল বলে সোনার বাংলা রিসোর্টের এক রুমেই উঠতে হয়েছিল সেদিন দুইটি ডাবল বেড আর একটি ফ্লোর ম্যাট সাথে পর্যাপ্ত বালিস আর কম্বল দেয়াতে আরেমেই কাটিয়েছিলাম সে রাত। ভাড়া পরেছিল ১৮০০ রুপী। মানে প্রতি পরিবারের ৬০০ রুপী। আর কেউই যেহেতু হানিমুন কাপল ছিলামনা সেহেতু কারোই সমস্যা হয়নি এক রুমেই শেয়ার করে থাকাতে। এরপর দিন থেকেই বাজেট আমাদের ধারনার চেয়ে কমতে শুরু করলো।
লাটাগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং যাবার দুটি উপায় ২৫০০-৩০০০ টাকার জীপ ভাড়া করে প্রথমে শিলিগুড়ি আর তারপর আবার জীপে ১৬০০ অথবা জনপ্রতি ১৫০ রুপী করে দার্জিলিং। দ্বিতীয় উপায় হল লাটাগুড়ি স্টেশন থেকে ২০ রুপীর টিকেট কেটে, ডুয়ার্সের অরণ্যের রূপ দেখতে দেখতে শিলিগুড়ি স্টেশন। তারপর দার্জিলিং রিজার্ভ বা শেয়ার জীপে। আমরা দ্বিতীয়টা বেছে নেয়ায় প্রবার প্রতি খরচ বেঁচে গিয়েছিল ১০০০ টাকা করে।
দার্জিলিং এ প্রথম দিনের রুম ভাড়া ছিল ১০০০ রুপী করে আর দ্বিতীয় দিন চমৎকার হোটেলে খোলা বারান্দাসহ রুম ভাড়া ১৩০০ রুপী করে। দার্জিলিং থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি জীপ পেয়েছিলাম ৩৫০০ রুপীতে, পরিবার প্রতি প্রায় ১২০০ রুপী।
শিলিগুড়িতে ভালো মানের ডাবল রুম পেয়েছিলাম ৯০০ রুপীতে। আর একদিন থেকে সকালে ৩০০০-৩৫০০ টাকায় জীপ রিজার্ভ বা করে একটু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ৬০ টাকা করে সরকারী বাসে উঠে চ্যাংরাবান্দা বাইপাস পর্যন্ত এসে, ৩০ টাকা করে টোটো ভাড়া দিয়ে বর্ডারে। বর্ডার পার হয়ে ৬০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে ঢাকায়। বাস থেকে নেমে ১২০ টাকা সিএনজি ভাড়া করে মিরপুর-২।
এই হল যাওয়া-আসা, থাকা-বেড়ানোর খরচ। এবার আসা যাক খাবারের খরচে। ঢাকা থেকে রাতের বাসে ওঠাতে রাতের খাবারটা বাসা থেকেই খেয়ে বাসে ওঠা গেছে। সকালে রংপুরে নাস্তা জনপ্রতি ২০ টাকা পরোটা দুইটা আর এর একটা করে ডিম, পানি নিজেদের সাথেই ছিল পর্যাপ্ত। দুপুরে ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে বুড়ির হোটেলে খাওয়া। রাতে লাটাগুড়ি বাজারে অমলেট আর পরাটা ৪০ রুপী করে জন প্রতি আর বাচ্চাদের জন্য ৮০ রুপীর চিকেন বিরিয়ানি সাথে সবার জন্য লিমকা। পরিবার প্রতি সকাল-দুপুর আর রাতে খরচ হয়েছিল ৬০০ টাকার মত।
দার্জিলিং এ সব সময় খাবার জন্য আমার পছন্দ মসজিদের গলিতে অবস্থিত ইসলামিয়া হোটেল ভাত আর মাংস খাওয়া যায় জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আমাদের প্রতি বেলায় পরিবার প্রতি খরচ হয়েছিল ২৫-৪৫ টাকা করে গড়ে ৩০০ টাকা। দুই দিনের শুধু দার্জিলিং এর খাবারের খরচ ৪০০ টাকা আর অন্যান্য খাবার নিয়ে আরও ২০০, মোট ৬০০ টাকা। দুই দিনে গড়ে ১০০০ টাকা। আর দার্জিলিং থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়িতে যেতে পথে নাস্তা আর শুকনা খাবারে খরচ হয়েছে ২০০ টাকা পরিবার প্রতি।
শিলিগুড়ি গিয়ে হোটেলে ফ্রেস হয়ে, আমাদের সব সময়ের শেষ দিনের মেগা ডিনার কেএফসিতে। জনপ্রতি ১২০ টাকায় ভরপুর রাইস আর চিকেন মিল। বাইরে বেরিয়ে ২০ টাকার ঠাণ্ডা লিমকায় চুমুক। হোটেলের পাশ থেকে মধ্যরাতে ৫ রুপীর চা আর ৫ রুপীর বিস্কিট, পথে বসে আর হেটে হেটে। সকালে হোটেলের পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে গরম গরম লুচি আর আলুর দম দিয়ে ১০ রুপীর নাস্তা সেরে বাসে উঠে বর্ডারে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বুড়ির হোটেলে ১০০ টাকা করে ভাত-ডাল আর মাছ বা মাংস, যার যেটা পছন্দ।

পথে লালমনিরহাট আর রংপুরে একটু চা আর ডিম সেদ্ধ খেয়ে ঘুম। সকালে ঢাকা। ব্যাস সফর শেষ হয়ে গেল নিতান্ত কম খরচেই।
এবার তবে টোটাল খরচের তালিকাতা ঝটপট দেখে নেয়া যাক কত করে খরচ হয়েছে পরিবার প্রতি, ৫ দিনের ডুয়ার্স- দার্জিলিং ভ্রমণের।
ঢাকা-রংপুর বাস ভাড়া ১৬৫০/- (তিন জনের পরিবার)
নাস্তা- ৬০/-
রংপুর-বুড়িমারি মাইক্রো ভাড়া ১০০০/-
দুপুরের খাবার রাউনড-৩০০/-
ট্র্যাভেল ত্যাক্স-১৫০০/-
চ্যাংরাবান্দা-লাটাগুড়ি জীপ ভাড়া ৬০০/-
লাটাগুড়িতে রুম ভাড়া সেয়ারে-৭০০/-
লাটাগুড়িতে রাতের খাবার ১৮০/-
লাটাগুড়ি-শিলিগুড়ি ট্রেনভাড়া ৭৫/-
শিলিগুড়ি-দার্জিলিং জীপ ভাড়া ৬০০/-
দার্জিলিং এ রুম ভাড়া প্রথম রাত ১৫০০/-
রাতের খাবার ১৫০/-
সকালের নাস্তা ৭৫/-
দ্বিতীয় দিনের রুমভাড়া ১৫০০/-
দুপুরের খাবার ২০০/-
রাতের খাবার- ২০০/-
পরদিন সকালের নাস্তা ১০০/-
অন্যান্য খাবার ২০০/-
দার্জিলিং থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়ি জীপ ভাড়া ১৫০০/-
পথে খাবার ২০০/-
রাতের খাবার ৫০০/-
হোটেল ভাড়া ১১০০/-
সকালের নাস্তা ৫০/-
বাস ভাড়া- ২০০/-
টোটো ভাড়া- ১০০/-
দুপুরের খাবার ৩০০/-
বাস ভাড়া ১৮০০/-
রাতের হালকা খাবার ১০০/-
সিএনজি ভাড়া ১২০/-
মোটঃ ১৬৫৬০/- টাকা
এবার প্রশ্ন আসতে পারে ১৬৫৬০/- টাকাকে কেন ১৫০০০/- টাকা বললাম?
বললাম এই কারনে যে ১৫০০ তিন জনের ভ্রমণ ট্যাক্স। ভ্রমণ ট্যাক্সকে আমি ভ্রমণ খরচের আওতাও ধরিনা, কারন এটা ফিক্সড কষ্ট, যেমন পাসপোর্ট ও ভিসা করার খরচ, যেটা বাধ্যতামূলক এবং সরকার নির্ধারিত খরচ সেটা তো সবাইকেই সমান ভাবে দিতেই হবে। আমার মতে ভ্রমণ খরচ বলতে আমি সেই খরচকেই বুঝি যেটা আপনি, আমি চাইলেই নিজেদের ইচ্ছা, পছন্দ, রুচি আর সাধ ও সাধ্যমত কমাতে বা বাড়াতে পারবো। সেটাই একচুয়াল ভ্রমণ খরচ। এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যাক্তিগত মত, ভিন্নমত থাকতেই পারে।
তো এই হল আমাদের সর্বশেষ ডুয়ার্স-দার্জিলিং ভ্রমণের অবাক করা খরচ, যেটা আমাদের নির্ধারিত বাজেটের চেয়েও কম। মাত্র ১৫০০০ টাকায় পুরো পরিবারের ৫ দিনের ডুয়ার্স-দার্জিলিং ভ্রমণের খতিয়ান।
সুতরাং ভারতের যে কোন যায়গা ভ্রমণে যদি রিজার্ভ জীপ না নিয়ে ওদের ষ্টেট ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন আর থাকার ক্ষেত্রে রুম শেয়ার করার মানসিকতা থাকে তাহলে খরচ অনেক কমে যায়। পাশাপাশি আমরা আরও যেটা করে থাকি, সকালে ভালো করে নাস্তা করি, দুপুরে ভাত বা ভারী খাবার খেয়ে সময় নষ্ট না করে শুকনো খাবার খেয়ে সারাদিন ঘুরেফিরে সন্ধ্যা বা রাতে ভালো করে ডিনার করে রুমে ফিরি। তাতে করে সময় বাঁচে আর বাঁচে খরচও।

আপনি কিভাবে ঘুরবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার, ভালোলাগা সাধ আর সাধ্যের ব্যাপার। আমার এভাবে ঘুরে বেড়াতে ভালোলাগে।
আমি এভাবেই খুব কম খরচে ঘুরি, এটাই আমার আনন্দ, আমার ভালোলাগা আর ঘুরে এসে মনের মাধুরী দিয়ে সেসব অনুভূতি গুলো লিখে শেয়ার করা, আমার ভালোবাসা।
সবাই ভালো থাকুন, সবার ভ্রমণ সুন্দর আর আনন্দঘন হোক, সেই প্রত্যাশায়।
সকল ভ্রমণে পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।

লেখাটি কপি করা(
Sajol Zahid)

Friday, 16 March 2018

১২ দিন বালি ভ্রমন

দুই বন্ধু মিলে ঠিক করি বালি যাব, যেই বলা সেই কাজ, জানুয়ারির ২ তারিখ টিকিট কেটে ফেললাম কাছাকাছি দিনে সবচে কম যেদিন। পারলে আমরা সেদিনি চলে যাই । ৯ তারিখ পেলাম ৩০,১০০ টাকা মালিন্দ এয়ারে । ফ্লাইট এর ট্রানযিট ৩ ঘন্টা যাবার সময় আসার সময় ৪ ঘন্টা । ট্রানযিট বেশি সহ আর একটা ফ্লাইট ছিল ওইটা সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পরযন্ত ট্রানযিট, টাকা বাচত ১৫০০ টাকার মত । 
বালি যেতে ফেরত আসার টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ডলার এন্ড্রস্মেন্ট থাকা লাগে । আমরা ২০০ ডলার এন্ডরস করি এক এক জন। হোটেল বুকিং করি ইন্দপিওরজয় হাউস নামের একটা হোসটেল, সিট ৬২৫ টাকা প্রতি রাত। হোসটেল এর পুল ছিল রেটিং ভাল ছিল দেখে এইটা নেই আমরা। আর প্রতি রাতে লাইভ মিউযিক আর ফ্রী ডিনার ছিল । 


বিমান দেশ থেকে সময় মতই ছারে, ট্রানযিট ছিল মালায়সিয়া । এয়ারপোর্ট নেমে দুইজনের খাওাদাওার জন্ন ১৫ ডলার ভাঙ্গিএ নেই । বালি পউছলাম ১০ তারিখ সকাল ১১ ৩০ এ। ইমিগ্রেশনে শুধু জিজ্ঞেস করে কয়জন আসছি , বলে ৩০ দিনের ফ্রী এন্ট্রি দিয়ে দেয়। বিমান সব সময় মত ছিল। এয়ারপোর্টে নেমে সিম কিনি ১৪০,০০০ রুপিয়া, ৯ জিবি "ইন্টারনেট শুধু" পেকেজ নেই। ১০০ ডলের = ১৩ লাখ ২০ হাজার রুপিয়া কম বেশি পাওয়া যায়। কিছু কিছু যায়গায় দেখবেন ১০০ ডলার =১৪ লাখ অফার করছে অইসব যায়গা থেকে দুরে থাকবেন। এ ছারা বালির মানুষ সবাই অনেক ভাল এবং দুই নম্বরি নাই বললেই চলে । টাকার হিসাব টা বুঝতে একটু সময় লাগে। ওদের ১০,০০০ মানে আমাদের ৬২ টাকা। 
এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ার সময় টেক্সি ওয়ালাদের সাথে আলাপ করতে থাকি, ৪৫০,০০০ থেকে ৪০০,০০০ ভারা চাইতে থাকে। একটু বাইরের দিকে গিয়ে ১০০,০০০ ঠিক করি। ( উবারে ৬০,০০০। কিন্তু এয়ারপোর্ট বা টুরিস্ট স্পট গুলতে উবারে যাওয়া যায় কিন্তু ওইখান থেকে আসা যায় না, অইখানকার সিস্টেম লোকাল টেক্সি ব্যবহার করতে হবে ) 
হোসটেলের কাছের একটা রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া সারি , ১৫০-২৫০ টাকায় আপনি ভাল খাবার পাবেন। ওইদিন বের হতে হতে বিকাল হয় কাছের একটা দোকান থেকে ৪ ঘন্টার জন্য একটা বাইক ভারা করি ৩০,০০০ দিয়ে , তেল সহ। সারাদিনের জন্য বাইক ভারা ৬০,০০০ থেকে শুরু তেল সহ। ( ১০,০০০ = ৬২ টাকা) ওইদিন কুটা বিচ এর ঘরাঘুরি করে ফেরত আসি।
কুটা বিচে লোকাল দের সাথে আড্ডা দেয়াটাও অনেক উপভজ্ঞ, সবাই ভাল ইংরেজি জানে , ভাল গিটার বাজায় আর সব হিট ইংরেজি গান মুখস্ত !!! আড্ডার মাঝখানে সামনে দিয়ে কোন ইন্ডিয়ান গেলে দেখবেন ওরা হিন্দি গান গেয়ে মজা করে । 
৫ কিলমিটার এর ভেতরে ঘোরাঘুরি করতে আমরা বাইক নিতাম আর দুরের জায়গা গুলয় ঘুরতে উবার ব্যেবহার করতাম। বাংলাদেশ থেকে ওইখানে উবার অনেক সস্তা আর গ্রেব আছে ওইটাও আরও সস্তা। ৪ দিন আমরা বালির বিভিন্ন স্পটে ঘুরি। ৫ম দিন আমরা বালির কাছে একটা দিপ নুসা পেনিদাতে যাই। অইখানে যাওার জন্য আমরা যেখানে থাকতাম কুটা সানসেট রোড থেকে সানুর বিচে যাই, অইখান থেকে বড় স্পীড বোটে নুসা পেনিদা যাই। ১৫০,০০০ রুপিয়া পার পারসন, এই বোটে ৪০ মিনিট সময় লাগে, এ ছারা লোকাল বোটে যাওয়া যায় ৪০,০০০-৬০,০০০ ভারা, ওইটাতে সময় লাগে ২ ঘন্টা। বোট সব নির্দিষ্ট টাইমে ছারে, হোটেল থেকে অথবা নেট থেকে সময় দেখে যাবেন। বালি গেলে নুসা পেনিদা মাস্ট একটা জায়গা।এইখনের সমুদ্রের পানি আমাদের বিছানাকান্দির পানির মত পরিস্কার আর কিযে নীল ! এই যায়গা ২ দিন থাকার মত, সব খানে নেটওয়ার্ক নাই, অফলাইন ম্যাপ নামায় নিলে ভাল । এখানকার হোটেল ওই ৬০০- ১২০০ তে ভাল মানের পাওয়া যায়। বাইক অথবা মানুষ বেশি হলে গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরতে পারবেন। তবে এইখানে বাইক চালাতে দক্ষ হলেই বাইক নিবেন, রাস্তা বান্দারবান , খাগড়াছড়ি ফেইল । এইখানে কেলেনকিং বিচ , আঙ্গেলস বিলাবং , সারিন ক্লিফ পএন্ট , ব্রকেন বিচের মত সুন্দর যায়গা আছে । আসার সময় আমরা পাশের একটা দিপ নুসা লেম্বগান হয়ে বালি ফেরত আসি। অইখানে একদিনে ঘুরে শেষ করে বিকালের মধ্যে বালি ফেরত যাওয়া যায়। ওহ একদম ভুলে গেছিলাম, রাম্বুতান, ড্রাগন ফলের মত বিদেশি ফল আমাদের দেশে ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি ওইখানে ফ্রেশ গাছ থেকে পারা ফল ১২০ টাকা করে কেজি । ইচ্ছা মত খেতে ভুলবেন না ।

ভিডিও বা ছবি এই যায়গার সৌন্দর্য কিছুই আনতে পারেনা। সামনা সামনি, ইন ফ্লেশ ইটস থাউযেন্ড টাইমস বেটার !
টিকেট কাটেন আর চলে যান। টিকেট ভারাটা বাদ দিলে, আমার কাছে কক্স-বাজার থেকে অনেক অনেক সস্তা মনেহইছে। যাবার আগে একটা ট্রাভেল প্লান বানাবেন, কোথায় কোথায় যাবন সেটা। টি ও বি র ডক ফাইল গুলা পরে নিলে আরও অনেক কিছু ক্লিয়ার হবে।

প্রতিদিন ১৫০০-৩০০০ পার পারসন টাকায় আপনি সব খরচ কাভার করতে পারবেন। এইভাবে যতদিন থাকেন। আসলে এর চেয়ে কমেও সম্ভব , কিন্তু এতটুকু আমার কাছে মিনিমাম মনেহইছে ।


বাকি দিন বালিতে ক্লাবিং আর চিল করে কাটায় দেই । আর বিদেশিদের সাথে শুন্দর ভাবে কথা বললে অনেক বন্ধু বানাতে পারবেন। সবাই অনেক ফ্রী আণ্ড ফ্রেন্ডলি । বাঙ্গালি/বাংলাদেশি হিসাবে দেশের মান রাখতে চেষ্টা করবেন সবসময় ।
আমরা পানির বোতল খাবার পেকেটে যেখানে সেখানে না ফেলে ব্যাগে করে ফেরত এনে জায়গা মত ফেলে দিয়ে আসছি ।

Thursday, 1 February 2018

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি সিরাজগঞ্জ

শাহজাদপুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ১৯৩৯ সালে তের টাকা দশ আনায় জমিদারি কিনে নেয় তার পরিবার। তার আগে এখানে ছিল নীলকরদের নীলকুঠি। ১৮৯০ সালে লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর রবীন্দ্রনাথের উপর এই জমিদারি তদারকির দায়িত্ব আসে। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ শাহজাদপুরে জমিদারি দেখাশোনা করেছেন। প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর পুরো কাছারি বাড়ির অবস্থিতি।
প্রধান ফটক পার হয়ে ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়বে হলুদ রঙের দোতলা কুঠি। নিচের তলা জুড়ে রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবি, চিঠি এবং তার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতার অংশ বাধাই করে দেয়ালে টানানো রয়েছে। দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে আছে রবীন্দ্রনাথ ব্যবহত নানারকম আসবাব-তৈজষপত্র। এছাড়া আরও বহু কিছু একসময় এখানে ছিল। যেগুলো পরবর্তীতে জাতীয় জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি-সম্ভারের উল্লেখযোগ্য অংশ শাহজাদপুরে বসে রচিত হয়েছে। পোস্টমাস্টার, ছুটি, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি গলাপগুলো এখানে লিখেছেন। শাহজাদপুরে নিজ চোখে দেখা বাস্তব চরিত্রগুলো তার সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে, গোপাল সাহার মেয়ে সমাপ্তি গল্পের নায়িকা, হারান চক্রবর্তী ছুটি গল্পের ফটিক, তার কাছারির বাবুর্চি কলিমুদ্দি চিরকুমার সভার কলিমুদ্দি মিঞা, পোস্টমাস্টার মহেন্দ লাল বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পোস্টমাস্টার গল্পের নায়ক।
বর্তমানে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম করা হয়েছে কাছাড়ি বাড়িতে। রবীন্দ্রপ্রেমিদের জন্য ভ্রমণের একটি চমৎকার স্থান হতে পারে এই কাছারি বাড়ি।

কীভাবে যাবেন: কাছারি বাড়িতে যেতে হলে ঢাকা থেকে সরাসরি শাহজাদপুরের বাসে যাওয়া যায়। এছাড়া সিরাজগঞ্জ শহর থেকে কুষ্টিয়ার বাসে উঠে শাহজাদপুর মোড়ে নেমে যাওয়া যায়। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সায় ১৫ টাকা ভাড়া নিবে কাছারি বাড়ি। কাছারিবাড়ির কমপ্লেক্স রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলো পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকে এবং সোমবার অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে।
আরেকটি কথা কাছারি বাড়ি গেলে কাছেই শাহ মাখদুমের মাজার ঘুরে আসতে ভুলবেননা। রিক্সায় ২০ টাকা ভাড়া নিবে মাজার পর্যন্ত।


Thursday, 4 January 2018

অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা দ্বীপ ভোলা

অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ, আসলে বাসা থেকে না বেরুলে আপনি বুঝতেও পারবেন না.. অনেক দিন কোথাও যাওয়া হচ্ছে না তাছাড়া মন টা ও ভাল ছিল না, তাই হুট করে ২ বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম মনপুরার উদ্দেশ্যে..
অাপনার গন্তব্য মনপুরা দ্বীপ.. ঢাকা থেকে সদরঘাট হতে বিকাল ৫.৩০ মিনিটে (এম ভি ফারহান) একটা লঞ্চ আর ৬.০০ মিনিটে (তাসরিফ) আরেকটা লঞ্চ মনপুরা, হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়..

ঐই খানে আপনার যাওয়ার জন্য আপনি কিছু শুখনো খাবার আর পানি নিয়ে লঞ্চে উঠে পরুন.. কারন লঞ্চে বাহিরের তুলোনায় দামটা একটু বেশি. আর চাইলে কেবিনও নিতে পারেন.. ভালো কথা অাপনি কেবিন না নিলে একটা কাপর টাইপের কিছু নিয়ে যেতে হবে বসার জন্য তাছাড়া অনেকজন গেলে কেবিন না নেওয়াটাই ভাল.. পারলে একটা গিটার নিয়ে যাবেন আর ভারী পোশাক পরে যাবেন লঞ্চ এ অনেক বাতাস ঠান্ডা লাগতে পারে.. আপনাকে ভোর ৫ টায় গিয়ে মনপুরা তে পৌছিয়ে দেবে...
তাছাড়া অইখানে গেলে জোড় সংখ্যা যাওয়া প্রয়োজন.. কারন অইখান থেকে দ্বীপ ঘুরার জন্য আপনাকে মটর সাইকেল ভাড়া করতে হবে.. তাই প্রতি মটর সাইকেল ৫০০ করে ২ জন না হলে আপনাদের খরচটাও বেড়ে যাবে.. আমরা তিন জন গিয়ে অনেক ভুল হয়ে গিয়েছে..
তাছাড়া লঞ্চ থেকে নামার পর দেখবেন কিছু দোকান পাশে কিছু মানুষ.. ঠিক ওই সময় কিছু লোক আপনাদের কে এসে জিজ্ঞাস করবে আপনারা কোথায় যাবেন.. আপনারা আমাদের মত এমন ভুল করবেন না. আমরা ঐই সময় মটর সাইকেল সারা দিনের জন্য ভাড়া না করে হাজির হাট এর উদ্দেশ্যে যাই সেই জন্য আমাদের আলাদা ভাবে ভাড়া দিতে হয়.. তাই আপনারা ঐই সময়ই ভাড়া করে ফেলবেন মটর সাইকেল.. আর আপনাকে থাকা খাওয়ার জন্য হাজির হাট বাজারে যেতে হবে.. ঐই খানে যাওয়ার পর কোনো ধরনের হোটেল বাড়া করতে পারবেন.. বা ডাক বাংলো রয়েছে বাড়া করে থাকতে পারেন রুম প্রতি ৫০০ নিবে ৪-৬ জন চোখ বন্ধ করে থাকতে পারবেন...

মনপুরা তে কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ সন্ধ্যা ৬ টা হতে রাত ১২ টা পর্যন্ত থাকে সেই জন্য পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন..
আসলে সত্যি বলতে দেখার মতো একটি যায়গা.. অার ওনারাই অাপনাদের দর্শনীস্থাহ গুলো দেখাবে.. একদিনে সব ঘুরতে পারবেন.. তাছাড়া একটা কথা শুনে গিয়েছি যাওয়ার সময় কিন্তু সেটা আর তেমন দেখা হলো কই... মনপুরায় অনেক হরিন ছিল আমরাও খবর নিয়ে গিয়েছি কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক গুড়িগুড়ি করে একটা হরিনের বাচ্ছা ছাড়া আর কিছুই দেখা মিললোনা..ঐই এলাকার মানুষ অনেক ভাল কিন্তু এই জিনিষ টা যেন সকল ভাল লাগাকে বিষে পরিনত করলো বন্য প্রানী হত্যা করে খাওয়া..
যে ২ টা মটর সাইকেল ঠিক করা হয়েছিল তাদের একজন বলতেছে কিছু দিন আগে আসলে আপনাদের কে হরিনের মাংস খাওয়াতাম.. উনি নাকি জেলেও গেছে এই মাংস খাওয়ার জন্য.. তিনি মনে হয় বুঝতে ভুল করেছে.. আমরা হরিন খাইতে নয় কাছ থেকে দেখতে গিয়েছিলাম.. আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলোকে আমরাই শেষ করছি.. এটা খুবই খারাপ লাগছে তাছাঁড়া ঐখানে এখন হরিনের দেখা মিলেনা বললেও চলে..

তারপর দুপুরে খাওয়ার সময় হাজির হাট বাজারে যেকোনো খাবার হোটেল এ বসতে পরেন.. দেখবেন অনেক ধরনের মাছের রয়েছে আছে আমরা ইলিশ মাছ খেয়েছিলাম.. এমন স্বাদ পাই নি ইলিশের এতো টাই ভালো মনে হয় অমৃত.. আপনাদের পছন্দ মত মাছ খেতে পারেন.. তবে অামি বলবো ইলিশ টা একটু ট্রাই করবেন.. তাছাড়া দাম ও কম প্রতি পিছ মাছ ৬০-৭০ টাকা.. আমরা ৫ জন খাওয়ার পর ৩৭০ টাকা বিল আসছিলো..

ইচ্ছা করলে রাতটা থেকে পরদিন ফিরতে পারেন.. কিন্তু আমরা দুপুরে খাওয়ার পর ঢাকাতে ব্যাক করি.. তাছাড়া আসার সময় দুপুর ২.৩০ এ ফারহান (লঞ্চ) আর ৩.০০ টায় তাসরিফ (লঞ্চ) মনপুরা হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।
যত বিকাল হয় মনপুরার চিত্র যেন ততই পালটে যায়.. অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক একটা দ্বীপ.. তাছাড়া ঐখানের মানুষ গুলো খুব আন্তরিক..
অনেক সুন্দর একটা যায়গা.. ঘুরার জন্য অনেক ভাল একটা যায়গা...
আপনি চাইলে মোট (১৫০০) মধ্যে এই দ্বীপটি তে ঘুড়ে আসতে পারেন.. অইখানে গেলে বুঝা যায় না প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার যে কি স্বাদ...

বিঃদ্রিঃ অাপনার খাওয়া চিপস ও চকলেটের কাগজ পানির ঠোস এগুলো যেখানে সেখাখে না ফেলে উপযুক্ত যায়গায় ফেলুন.. পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে অাসুন...