Friday, 16 March 2018

১২ দিন বালি ভ্রমন

দুই বন্ধু মিলে ঠিক করি বালি যাব, যেই বলা সেই কাজ, জানুয়ারির ২ তারিখ টিকিট কেটে ফেললাম কাছাকাছি দিনে সবচে কম যেদিন। পারলে আমরা সেদিনি চলে যাই । ৯ তারিখ পেলাম ৩০,১০০ টাকা মালিন্দ এয়ারে । ফ্লাইট এর ট্রানযিট ৩ ঘন্টা যাবার সময় আসার সময় ৪ ঘন্টা । ট্রানযিট বেশি সহ আর একটা ফ্লাইট ছিল ওইটা সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পরযন্ত ট্রানযিট, টাকা বাচত ১৫০০ টাকার মত । 
বালি যেতে ফেরত আসার টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ডলার এন্ড্রস্মেন্ট থাকা লাগে । আমরা ২০০ ডলার এন্ডরস করি এক এক জন। হোটেল বুকিং করি ইন্দপিওরজয় হাউস নামের একটা হোসটেল, সিট ৬২৫ টাকা প্রতি রাত। হোসটেল এর পুল ছিল রেটিং ভাল ছিল দেখে এইটা নেই আমরা। আর প্রতি রাতে লাইভ মিউযিক আর ফ্রী ডিনার ছিল । 


বিমান দেশ থেকে সময় মতই ছারে, ট্রানযিট ছিল মালায়সিয়া । এয়ারপোর্ট নেমে দুইজনের খাওাদাওার জন্ন ১৫ ডলার ভাঙ্গিএ নেই । বালি পউছলাম ১০ তারিখ সকাল ১১ ৩০ এ। ইমিগ্রেশনে শুধু জিজ্ঞেস করে কয়জন আসছি , বলে ৩০ দিনের ফ্রী এন্ট্রি দিয়ে দেয়। বিমান সব সময় মত ছিল। এয়ারপোর্টে নেমে সিম কিনি ১৪০,০০০ রুপিয়া, ৯ জিবি "ইন্টারনেট শুধু" পেকেজ নেই। ১০০ ডলের = ১৩ লাখ ২০ হাজার রুপিয়া কম বেশি পাওয়া যায়। কিছু কিছু যায়গায় দেখবেন ১০০ ডলার =১৪ লাখ অফার করছে অইসব যায়গা থেকে দুরে থাকবেন। এ ছারা বালির মানুষ সবাই অনেক ভাল এবং দুই নম্বরি নাই বললেই চলে । টাকার হিসাব টা বুঝতে একটু সময় লাগে। ওদের ১০,০০০ মানে আমাদের ৬২ টাকা। 
এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ার সময় টেক্সি ওয়ালাদের সাথে আলাপ করতে থাকি, ৪৫০,০০০ থেকে ৪০০,০০০ ভারা চাইতে থাকে। একটু বাইরের দিকে গিয়ে ১০০,০০০ ঠিক করি। ( উবারে ৬০,০০০। কিন্তু এয়ারপোর্ট বা টুরিস্ট স্পট গুলতে উবারে যাওয়া যায় কিন্তু ওইখান থেকে আসা যায় না, অইখানকার সিস্টেম লোকাল টেক্সি ব্যবহার করতে হবে ) 
হোসটেলের কাছের একটা রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়া সারি , ১৫০-২৫০ টাকায় আপনি ভাল খাবার পাবেন। ওইদিন বের হতে হতে বিকাল হয় কাছের একটা দোকান থেকে ৪ ঘন্টার জন্য একটা বাইক ভারা করি ৩০,০০০ দিয়ে , তেল সহ। সারাদিনের জন্য বাইক ভারা ৬০,০০০ থেকে শুরু তেল সহ। ( ১০,০০০ = ৬২ টাকা) ওইদিন কুটা বিচ এর ঘরাঘুরি করে ফেরত আসি।
কুটা বিচে লোকাল দের সাথে আড্ডা দেয়াটাও অনেক উপভজ্ঞ, সবাই ভাল ইংরেজি জানে , ভাল গিটার বাজায় আর সব হিট ইংরেজি গান মুখস্ত !!! আড্ডার মাঝখানে সামনে দিয়ে কোন ইন্ডিয়ান গেলে দেখবেন ওরা হিন্দি গান গেয়ে মজা করে । 
৫ কিলমিটার এর ভেতরে ঘোরাঘুরি করতে আমরা বাইক নিতাম আর দুরের জায়গা গুলয় ঘুরতে উবার ব্যেবহার করতাম। বাংলাদেশ থেকে ওইখানে উবার অনেক সস্তা আর গ্রেব আছে ওইটাও আরও সস্তা। ৪ দিন আমরা বালির বিভিন্ন স্পটে ঘুরি। ৫ম দিন আমরা বালির কাছে একটা দিপ নুসা পেনিদাতে যাই। অইখানে যাওার জন্য আমরা যেখানে থাকতাম কুটা সানসেট রোড থেকে সানুর বিচে যাই, অইখান থেকে বড় স্পীড বোটে নুসা পেনিদা যাই। ১৫০,০০০ রুপিয়া পার পারসন, এই বোটে ৪০ মিনিট সময় লাগে, এ ছারা লোকাল বোটে যাওয়া যায় ৪০,০০০-৬০,০০০ ভারা, ওইটাতে সময় লাগে ২ ঘন্টা। বোট সব নির্দিষ্ট টাইমে ছারে, হোটেল থেকে অথবা নেট থেকে সময় দেখে যাবেন। বালি গেলে নুসা পেনিদা মাস্ট একটা জায়গা।এইখনের সমুদ্রের পানি আমাদের বিছানাকান্দির পানির মত পরিস্কার আর কিযে নীল ! এই যায়গা ২ দিন থাকার মত, সব খানে নেটওয়ার্ক নাই, অফলাইন ম্যাপ নামায় নিলে ভাল । এখানকার হোটেল ওই ৬০০- ১২০০ তে ভাল মানের পাওয়া যায়। বাইক অথবা মানুষ বেশি হলে গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরতে পারবেন। তবে এইখানে বাইক চালাতে দক্ষ হলেই বাইক নিবেন, রাস্তা বান্দারবান , খাগড়াছড়ি ফেইল । এইখানে কেলেনকিং বিচ , আঙ্গেলস বিলাবং , সারিন ক্লিফ পএন্ট , ব্রকেন বিচের মত সুন্দর যায়গা আছে । আসার সময় আমরা পাশের একটা দিপ নুসা লেম্বগান হয়ে বালি ফেরত আসি। অইখানে একদিনে ঘুরে শেষ করে বিকালের মধ্যে বালি ফেরত যাওয়া যায়। ওহ একদম ভুলে গেছিলাম, রাম্বুতান, ড্রাগন ফলের মত বিদেশি ফল আমাদের দেশে ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি ওইখানে ফ্রেশ গাছ থেকে পারা ফল ১২০ টাকা করে কেজি । ইচ্ছা মত খেতে ভুলবেন না ।

ভিডিও বা ছবি এই যায়গার সৌন্দর্য কিছুই আনতে পারেনা। সামনা সামনি, ইন ফ্লেশ ইটস থাউযেন্ড টাইমস বেটার !
টিকেট কাটেন আর চলে যান। টিকেট ভারাটা বাদ দিলে, আমার কাছে কক্স-বাজার থেকে অনেক অনেক সস্তা মনেহইছে। যাবার আগে একটা ট্রাভেল প্লান বানাবেন, কোথায় কোথায় যাবন সেটা। টি ও বি র ডক ফাইল গুলা পরে নিলে আরও অনেক কিছু ক্লিয়ার হবে।

প্রতিদিন ১৫০০-৩০০০ পার পারসন টাকায় আপনি সব খরচ কাভার করতে পারবেন। এইভাবে যতদিন থাকেন। আসলে এর চেয়ে কমেও সম্ভব , কিন্তু এতটুকু আমার কাছে মিনিমাম মনেহইছে ।


বাকি দিন বালিতে ক্লাবিং আর চিল করে কাটায় দেই । আর বিদেশিদের সাথে শুন্দর ভাবে কথা বললে অনেক বন্ধু বানাতে পারবেন। সবাই অনেক ফ্রী আণ্ড ফ্রেন্ডলি । বাঙ্গালি/বাংলাদেশি হিসাবে দেশের মান রাখতে চেষ্টা করবেন সবসময় ।
আমরা পানির বোতল খাবার পেকেটে যেখানে সেখানে না ফেলে ব্যাগে করে ফেরত এনে জায়গা মত ফেলে দিয়ে আসছি ।

Thursday, 1 February 2018

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি সিরাজগঞ্জ

শাহজাদপুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ১৯৩৯ সালে তের টাকা দশ আনায় জমিদারি কিনে নেয় তার পরিবার। তার আগে এখানে ছিল নীলকরদের নীলকুঠি। ১৮৯০ সালে লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর রবীন্দ্রনাথের উপর এই জমিদারি তদারকির দায়িত্ব আসে। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ শাহজাদপুরে জমিদারি দেখাশোনা করেছেন। প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর পুরো কাছারি বাড়ির অবস্থিতি।
প্রধান ফটক পার হয়ে ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়বে হলুদ রঙের দোতলা কুঠি। নিচের তলা জুড়ে রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবি, চিঠি এবং তার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতার অংশ বাধাই করে দেয়ালে টানানো রয়েছে। দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে আছে রবীন্দ্রনাথ ব্যবহত নানারকম আসবাব-তৈজষপত্র। এছাড়া আরও বহু কিছু একসময় এখানে ছিল। যেগুলো পরবর্তীতে জাতীয় জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি-সম্ভারের উল্লেখযোগ্য অংশ শাহজাদপুরে বসে রচিত হয়েছে। পোস্টমাস্টার, ছুটি, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি গলাপগুলো এখানে লিখেছেন। শাহজাদপুরে নিজ চোখে দেখা বাস্তব চরিত্রগুলো তার সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে, গোপাল সাহার মেয়ে সমাপ্তি গল্পের নায়িকা, হারান চক্রবর্তী ছুটি গল্পের ফটিক, তার কাছারির বাবুর্চি কলিমুদ্দি চিরকুমার সভার কলিমুদ্দি মিঞা, পোস্টমাস্টার মহেন্দ লাল বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পোস্টমাস্টার গল্পের নায়ক।
বর্তমানে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম করা হয়েছে কাছাড়ি বাড়িতে। রবীন্দ্রপ্রেমিদের জন্য ভ্রমণের একটি চমৎকার স্থান হতে পারে এই কাছারি বাড়ি।

কীভাবে যাবেন: কাছারি বাড়িতে যেতে হলে ঢাকা থেকে সরাসরি শাহজাদপুরের বাসে যাওয়া যায়। এছাড়া সিরাজগঞ্জ শহর থেকে কুষ্টিয়ার বাসে উঠে শাহজাদপুর মোড়ে নেমে যাওয়া যায়। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সায় ১৫ টাকা ভাড়া নিবে কাছারি বাড়ি। কাছারিবাড়ির কমপ্লেক্স রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলো পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকে এবং সোমবার অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে।
আরেকটি কথা কাছারি বাড়ি গেলে কাছেই শাহ মাখদুমের মাজার ঘুরে আসতে ভুলবেননা। রিক্সায় ২০ টাকা ভাড়া নিবে মাজার পর্যন্ত।


Thursday, 4 January 2018

অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা দ্বীপ ভোলা

অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ, আসলে বাসা থেকে না বেরুলে আপনি বুঝতেও পারবেন না.. অনেক দিন কোথাও যাওয়া হচ্ছে না তাছাড়া মন টা ও ভাল ছিল না, তাই হুট করে ২ বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম মনপুরার উদ্দেশ্যে..
অাপনার গন্তব্য মনপুরা দ্বীপ.. ঢাকা থেকে সদরঘাট হতে বিকাল ৫.৩০ মিনিটে (এম ভি ফারহান) একটা লঞ্চ আর ৬.০০ মিনিটে (তাসরিফ) আরেকটা লঞ্চ মনপুরা, হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়..

ঐই খানে আপনার যাওয়ার জন্য আপনি কিছু শুখনো খাবার আর পানি নিয়ে লঞ্চে উঠে পরুন.. কারন লঞ্চে বাহিরের তুলোনায় দামটা একটু বেশি. আর চাইলে কেবিনও নিতে পারেন.. ভালো কথা অাপনি কেবিন না নিলে একটা কাপর টাইপের কিছু নিয়ে যেতে হবে বসার জন্য তাছাড়া অনেকজন গেলে কেবিন না নেওয়াটাই ভাল.. পারলে একটা গিটার নিয়ে যাবেন আর ভারী পোশাক পরে যাবেন লঞ্চ এ অনেক বাতাস ঠান্ডা লাগতে পারে.. আপনাকে ভোর ৫ টায় গিয়ে মনপুরা তে পৌছিয়ে দেবে...
তাছাড়া অইখানে গেলে জোড় সংখ্যা যাওয়া প্রয়োজন.. কারন অইখান থেকে দ্বীপ ঘুরার জন্য আপনাকে মটর সাইকেল ভাড়া করতে হবে.. তাই প্রতি মটর সাইকেল ৫০০ করে ২ জন না হলে আপনাদের খরচটাও বেড়ে যাবে.. আমরা তিন জন গিয়ে অনেক ভুল হয়ে গিয়েছে..
তাছাড়া লঞ্চ থেকে নামার পর দেখবেন কিছু দোকান পাশে কিছু মানুষ.. ঠিক ওই সময় কিছু লোক আপনাদের কে এসে জিজ্ঞাস করবে আপনারা কোথায় যাবেন.. আপনারা আমাদের মত এমন ভুল করবেন না. আমরা ঐই সময় মটর সাইকেল সারা দিনের জন্য ভাড়া না করে হাজির হাট এর উদ্দেশ্যে যাই সেই জন্য আমাদের আলাদা ভাবে ভাড়া দিতে হয়.. তাই আপনারা ঐই সময়ই ভাড়া করে ফেলবেন মটর সাইকেল.. আর আপনাকে থাকা খাওয়ার জন্য হাজির হাট বাজারে যেতে হবে.. ঐই খানে যাওয়ার পর কোনো ধরনের হোটেল বাড়া করতে পারবেন.. বা ডাক বাংলো রয়েছে বাড়া করে থাকতে পারেন রুম প্রতি ৫০০ নিবে ৪-৬ জন চোখ বন্ধ করে থাকতে পারবেন...

মনপুরা তে কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ সন্ধ্যা ৬ টা হতে রাত ১২ টা পর্যন্ত থাকে সেই জন্য পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন..
আসলে সত্যি বলতে দেখার মতো একটি যায়গা.. অার ওনারাই অাপনাদের দর্শনীস্থাহ গুলো দেখাবে.. একদিনে সব ঘুরতে পারবেন.. তাছাড়া একটা কথা শুনে গিয়েছি যাওয়ার সময় কিন্তু সেটা আর তেমন দেখা হলো কই... মনপুরায় অনেক হরিন ছিল আমরাও খবর নিয়ে গিয়েছি কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক গুড়িগুড়ি করে একটা হরিনের বাচ্ছা ছাড়া আর কিছুই দেখা মিললোনা..ঐই এলাকার মানুষ অনেক ভাল কিন্তু এই জিনিষ টা যেন সকল ভাল লাগাকে বিষে পরিনত করলো বন্য প্রানী হত্যা করে খাওয়া..
যে ২ টা মটর সাইকেল ঠিক করা হয়েছিল তাদের একজন বলতেছে কিছু দিন আগে আসলে আপনাদের কে হরিনের মাংস খাওয়াতাম.. উনি নাকি জেলেও গেছে এই মাংস খাওয়ার জন্য.. তিনি মনে হয় বুঝতে ভুল করেছে.. আমরা হরিন খাইতে নয় কাছ থেকে দেখতে গিয়েছিলাম.. আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলোকে আমরাই শেষ করছি.. এটা খুবই খারাপ লাগছে তাছাঁড়া ঐখানে এখন হরিনের দেখা মিলেনা বললেও চলে..

তারপর দুপুরে খাওয়ার সময় হাজির হাট বাজারে যেকোনো খাবার হোটেল এ বসতে পরেন.. দেখবেন অনেক ধরনের মাছের রয়েছে আছে আমরা ইলিশ মাছ খেয়েছিলাম.. এমন স্বাদ পাই নি ইলিশের এতো টাই ভালো মনে হয় অমৃত.. আপনাদের পছন্দ মত মাছ খেতে পারেন.. তবে অামি বলবো ইলিশ টা একটু ট্রাই করবেন.. তাছাড়া দাম ও কম প্রতি পিছ মাছ ৬০-৭০ টাকা.. আমরা ৫ জন খাওয়ার পর ৩৭০ টাকা বিল আসছিলো..

ইচ্ছা করলে রাতটা থেকে পরদিন ফিরতে পারেন.. কিন্তু আমরা দুপুরে খাওয়ার পর ঢাকাতে ব্যাক করি.. তাছাড়া আসার সময় দুপুর ২.৩০ এ ফারহান (লঞ্চ) আর ৩.০০ টায় তাসরিফ (লঞ্চ) মনপুরা হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।
যত বিকাল হয় মনপুরার চিত্র যেন ততই পালটে যায়.. অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক একটা দ্বীপ.. তাছাড়া ঐখানের মানুষ গুলো খুব আন্তরিক..
অনেক সুন্দর একটা যায়গা.. ঘুরার জন্য অনেক ভাল একটা যায়গা...
আপনি চাইলে মোট (১৫০০) মধ্যে এই দ্বীপটি তে ঘুড়ে আসতে পারেন.. অইখানে গেলে বুঝা যায় না প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার যে কি স্বাদ...

বিঃদ্রিঃ অাপনার খাওয়া চিপস ও চকলেটের কাগজ পানির ঠোস এগুলো যেখানে সেখাখে না ফেলে উপযুক্ত যায়গায় ফেলুন.. পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে অাসুন...

Friday, 15 December 2017

সেন্টমার্টিন মেইন বিচ

১.যাওয়া
নন এসি বাসে টেকনাফ -৯০০টাকা (২দিন আগে টিকিট করুন । সৌদিয়া হলে ভালো হয় মোবাইল/পাওয়ার ব‍্যাংক চার্জ দিতে পারবেন ।)
সি ট্রাকে ওপেন ডেকে ৫৫০ টাকা আপ ডাউন । (৮/৯ দিন আগে টিকিট করবেন । শুক্রবার/শনিবার/বিশেষ দিন ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি শেষে যেতে গেলে ১০/১২ দিন আগে টিকিট করবেন । ঢাকা থেকে টিকিট না করেও যেতে পারেন। ভাগ্য ভালো হলে ভালো সি ট্রাক পাবেন না হলে যেগুলোতে ৪গুণ বেশি যাত্রী নেয় সেটায় স্টান্ডিং এ যাবেন । স্টান্ডিয়েও ৫৫০টাকা ভাড়া । )
২.থাকা
হোটেল ডাবল বেড প্রতি রাত প্রতি রুম ৮০০ টাকা (৪/৫/৮/৯/১০ এর জন্য , আমার ৪জন ছিলাম, ২রাতে ২০০+২০০=৪০০টাকা লেগেছে প্রতি জনের । ২/৩ দিন আগে বুকিং করলে রুম ভালো পাওয়া যায়। )
হোটেল স্বপ্ন প্রবাল -০১৭২৩০৮২০৪৮,০১৯১১৫৫২৪৫৬

৩.খাওয়া
ক. টেকনাফে নেমে -৮০ টাকা(পরটা, ভাজি , ডিম )
খ. সেন্ট মার্টিন নেমে দুপুরে -১২০ টাকা( ভাত , ভর্তা, মাছ ভাজি , ডাল)
গ.সেন্ট মার্টিনে রাতে - ১৪০টাকা ( ভাত , ভর্তা, মাছ ভুনা , ডাল)
ঘ.সেন্ট মার্টিনে নাস্তা - ৮০টাকা (পরটা, ভাজি , ডিম , চা ) /(খিচুড়িও খেতে পারেন দাম একই)
ঙ. ছেড়া দ্বীপে দুপুরে - ১৩০ টাকা(ভাত , আলু ভর্তা,মাছ ভর্তা , ডাল । অসাধারণ পরিবেশ ছিল ।)
চ. সেন্ট মার্টিনে রাতে - ২৫০ টাকা (বারবিকিউ কেজি ৭০০ টাকা কেজি , আমারা ৪জন ছিলাম । ৪টা ছোট কোরাল মাছ নিয়েছিলাম । ১৩০০গ্ৰাম ছিল ৯০০ টাকা লেগেছিল । আর ১০০টাকা দিয়ে ৪জনের ভাত,ডাল,ভর্তা নিয়েছিলাম । এইভাবে ১০০০ টাকা লেগেছিল ৪ জনের । )
ছ. সেন্ট মার্টিনে নাস্তা - ৮০ টাকা(পরটা, ভাজি , ডিম , চা )
জ. সেন্ট মার্টিন দুপুরে -২০০টাকা ( ভাত , ভর্তা, মাছ ভুনা , ডাল । একদম ঘাট থেকে খেয়েছিলাম । বাজেটে খেতে গেলে ঘাট থেকে খাবেন না ।)
ঝ. যাওয়া আসার সময় বাসে ১৫০-১৮০ টাকার মত খাওয়ার পিছনে খরচ হয়েছে । তাও ভাল কিছু খেতে পারিনি । ভালো হয় যাওয়া আসার সময় ৫০+৫০=১০০ টাকার স্ন্যাকস কিনে রাখুন ।
হাসান রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন । আমার বেশ ভালো
সেবা পেয়েছি তাদের কাছ থেকে ।

৪. আসার খরচ -৯০০ টাকা বাস । (ভালো হয় টেকনাফে নেমেই টিকিট করে রাখবেন । তাহলে ভালো বাস পাবেন ।)
৫. অন‍্য খরচ -
ক. সাইকেলিং -৫০( ১ ঘণ্টা) টাকা
খ. বিভিন্ন সময়ে ডাব খাওয়ার জন্য -২০০ টাকা
গ. ছেড়া দ্বীপে হেটেই গিয়েছিলাম । রাস্তায় ৫০ টাকার নাস্তা । আসার সময় জোয়ারের পানি চলে আসায় ২০ টাকা নৌকা । আর ২০ টাকা ভ‍্যান ।
ঘ. ফ্লাক্সিলোড - ১৫০ টাকা ।
ঙ. একজন বেশ ভালো গাইড পায়ে ছিলাম । তার ১বেলা খাবার এবং ১০০ টাকা । ১৫০ টাকার মত হবে প্রতি জনের । গাইড খুবই ভালো । সে এক টাকাও নিতে চায়নি এমনকি খাওয়ার টাকাও নিতে চায় নি। তাও আমারা ৫০০ টাকা দিয়ে আসছি এবং এক বেলা খাবারের টাকা দিয়েছি ‌। কেননা আমাদের বেশ সহোযগিতা করেছে । যাতে আমাদের কষ্ট
এবং টাকা সাশ্রয় হয়েছে ।
চ. ক‍্যাম্প ফায়ার করেছিলাম । তখন লাকড়ি ও কেরোসিনের জন্য ৫০ টাকা লেগেছিল প্রতি জনের ।
মোট খরচ - ৪৫০০ টাকা
বাস- ১৮০০ টাকা
সি-ট্রাক- ৫৫০ টাকা
হোটেল - ৪০০(২রাত) টাকা
খাওয়া- ১১৫০ টাকা
অন‍্যান‍্য -৬০০ টাকা
সেন্টমার্টিনে আমারা প্রচুর আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখেছি যেটি আমাদের কাম্য নয় ।
দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই আবর্জনা গুলো ফেলারও যথেষ্ট কোনো উপযুক্ত স্থান আমারা পাই নি । আশা করি সংশ্লিষ্ট মহল ব‍্যাবস্থা নিবেন। আর যারা ভ্রমণে যাচ্ছেন তারাও সতর্ক থাকবেন ।

Thursday, 9 November 2017

কাপ্তাই লেকে

কাপ্তাই লেকে একদিন - বাংলাদেশের মানচিত্রের বৃহত্তম জেলা হিসেবে সমাদৃত রাঙামাটি। পর্যটকদের জন্য রাঙামাটি শুধু অলস সৌন্দর্যের আঁধার ই নয় বরং অনন্তযৌবনা যা কখনো বার্ধক্যে ক্ষয়ে যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম লেকের উপস্থিতি (কাপ্তাই লেক) রাঙামাটি কে পর্যটকদের কাছে পূর্ণতা প্রদান করেছে। রাঙামাটির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, কোথাও সবুজের চাদরে জড়ানো প্রকৃতি স্বর্গীয় রূপে ধরা দিবে আবার কোথাও পাহাড়ের চূড়া কে ছুঁয়ে দিগন্ত রেখায় মিলিয়ে যাবে দুরন্ত মেঘমালা। 

নি:সন্দেহে রাঙামাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ- ঝুলন্ত সেতু যা "Symbol of Rangamati" নামেই সর্বাধিক সমাদৃত। প্রায় 335 ফুটের মতো দৈর্ঘ্যের এ ঝুলন্ত সেতু দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড় কে এক সুতোয় মিলিয়ে দিয়েছে। শেষ বিকেলের আলোয় ঝুলন্ত সেতু থেকে কাপ্তাই লেকের মায়াবী রূপে আপনি অভিভূত হবেন ই, জোর দিয়ে ই এটা বলা যায়।
পাশাপাশি, শুভলং ঝর্ণা রাঙামাটি র আরেকটি বিজ্ঞাপন। আর, এদেশের অন্যান্য ঝর্ণা র মতো শুভলং এর ও ভরা যৌবন কিন্তু ভরা বর্ষাতেই পাবেন। অন্যাথা হতাশ হবেন।
এর বাইরে, চাকমা রাজার প্রাসাদ, রাজবন বিহার, পেদা টিং টিং মোটামুটি উল্লেখযোগ্য। এ পর্যন্ত দু'বার রাঙামাটি যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রথমবার, সরকারি গেস্ট হাউসে আর পরের বার হোটেল নাদিসা ইন্টারন্যাশনাল এ ছিলাম। রিজার্ভ বাজারে, কাপ্তাই লেকের খুব কাছেই এ হোটেলটি তে আমাদের খুব ভালো সময় কেটেছিল। এতটাই ভালো লেগেছিল যে, বর্ষার মধ্যে একটা দিন শুধু হোটেলের রুমে ই ঘুমিয়ে কাটিয়েছিলাম। আর সারাদিনের জন্য নৌকা ভাড়া পড়েছিল বারোশো টাকার মতো।
# অবশ্যই প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করবেন। আমার, আপনার দায়িত্বপূর্ণ আচরণের ই পারে আমাদের প্রকৃতি কে পরিচ্ছন্ন রাখতে। (ঢাকা- রাঙামাটি- কাপ্তাই লেক)।