Tuesday, 20 March 2018

কম খরচে ভ্রমন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন কক্সবাজার

দেশের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা কোনটা জিজ্ঞেস করলে চোখ বন্ধ করে বলবো সেন্ট মার্টিন। প্রতি বছরে যাওয়া হয় তাও খায়েস মিটে না। যাইহোক, এবার সেন্ট মার্টিন ঘুরেছিলাম একটু অন্যভাবে। সাধারনত যারা সেন্ট মার্টিন যায় বেশিরভাগই জেটি, বাজার, বীচ আর বোটে করে ছেঁড়া দ্বীপ ঘুরে আসে। সেন্টমার্টিনের ভিতরে বা চারপাশে খুব একটা ঘুরা হয় না।
.
তাই এবার গিয়েছি সেন্ট মার্টিনের ভিতর দিয়ে ভ্যানে করে ছেঁড়াদ্বীপ। ভ্যানে করে যাব শুনে অনেকেই ভ্যাটকাচ্ছিল, কিন্তু রুবেল নামে এক ভ্যান চালক বলল অন্যের কথায় কান দিয়া কাম নাই, চলেন নিয়া যাই। উনি নিয়ে যাবেন। দুই তিন ঘন্টা থাকবেন আবার নিয়ে আসবেন। ৫০০টাকায় ঠিক করলাম।
.




যেতেযেতে অনেক কিছুই দেখা হল যা গত কয়েকবার সেন্টমার্টিন যেয়েও দেখা হয় নি। সেন্ট মার্টিনের মাঝখান দিয়ে কিছু পাকা কিছু কাচা রাস্তা পার করে দ্বীপের একেবারে প্রায় শেষ দিকে চলে গেলাম ভ্যানে করে । এরপর আসলেই আর যাওয়ার মত অবস্থা নাই, কারন বালিগুলো খুবই নরম। চাকা ডেবে যায়।( মাঝে কিছু রাস্তা নামার লাগছে নরম বালি বলে, দুই এক মিনিট হেঁটে আবার ভ্যানে)
এরপর ১০-২০ মিনিট হাটলেই ছেঁড়া দ্বীপ। হাটার স্পিডের উপর নির্ভর করবে কত সময় লাগবে, এলবামে সিরিয়ালি দেয়া আছে, ছবি দেখলেই বুঝবেন।

.
আমরা আর ভ্যানে করে ফিরি নি, পশ্চিম বিচ দিয়ে হেঁটে এসেছি। সাধারনত এদিক দিয়ে মানুষজন/পর্যটক খুব একটা যাওয়া আসা করে না। যারা সাইকেল নিয়ে আসে পুরো দ্বীপ ঘুরবে বলে তারাও এখনে সব জায়গায় দিয়ে যেতে পারে না কারন নরম বালি আর পাথর। তবে কষ্ট করে হেঁটে যেতে পারলে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। কিছু জায়গা আছে খুবই নির্জন। যতদূর চোখ যায় কাউকে দেখা যায় না। সময় নিয়ে গেলে একবার এভাবে পুরো দ্বীপটা ঘুরে দেখতে পারেন। যারা দেখেননি তাদের নতুন এক্সপেরিয়ান্স হবে। আর বর্ষাকালে ঘুরতে পারলে আরো জোস তবে রিস্কি। 

.
এবার কিছু ফ্রি ইনফরমেশন দেই।
বাসঃ নন এসি বাস ঢাকা থেকে টেকনাফ ৯০০ এসি ১৭৫০। তবে টিকেট কাটার আগে অনলাইনে দেখে নিয়েন টিকেটের কি হাল। যদি দেখেন বাসের সিট বেশিরভাগে খালি তাহলে এসি বাসে দামাদামি করে কমাতে পারবেন। আমরা ১৭৫০ টাকার এসি বাসে ১৩০০টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম 
.
শীপঃ যদি ভাল ভিউ চান তাহলে কেয়ারী সিন্দাবাদের ওপেন ডেক, যদি তাড়াতাড়ি যেতে চান তাহলে গ্রীন লাইন, যদি টেবিলে বসে খাইতে খাইতে যেতে চান তাহলে কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন। ভাড়া ৫৫০ থেকে ১৪০০
.
হোটেলঃ যদি নিরিবিলি জায়গায় থাকতে চান তাহলে পশ্চিম দিকের রিসোর্টগুলোতে থাকতে পারেন। সাইয়রী, কিংশুক, লাবিব এগুলো ভালই। তবে দোকানপাট অনেক দূরে। যদি অনেক পোলাপাইন সহ কমদামে জেটির কাছে ভাল হোটেল চান তাহলে ব্লু মেরিনের কুটির নিতে পারেন। ১০বেড ৩০০০/-। আর যদি বাজার, জেটি, প্লাস বারান্দা থেকে সরাসরি সাগর দেখতে চান তাহলে প্রিন্স হ্যাভেনে উঠতে পারে। এর মত ভিউ অন্য কোন হোটেলে নাই তবে সরি টু সে ভিতরে যাচ্ছে তাই অবস্থা। ২৫০০-৩০০০ দিয়ে এমন হোটেলে আসলে পোষায় না শুধু ভিউ ছাড়া।
এছাড়াও বাজারের মধ্যে ৫০০-৬০০টাকাতেও অনেক হোটেল আছে দামাদামি করে নিতে পারেন।
.ভ্যানঃ জাহাজ আসলে ১০০টাকা আর জাহাজ চলে গেলে ২০টাকা হয় ভ্যানের ভাড়া। ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ভ্যানে চইড়া হুদা টাকা খরছ না করাই ভাল।
.
গলাচিপা জায়গাটা সুন্দর। জেটি থেকে আধাঘন্টা হাটলেই পেয়ে যাবেন। এখানে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দুই পাশের বীচ দেখা যায়।
.
খাবারঃ সেন্টমার্টিনে সব জায়গায় খাবার একি। মোটা চালের ভাত, ডাল, মাছ। সব মাছ রান্নার প্রসেসও একি। হলুদ, মরিচ, লবন দিয়ে কড়কড়া ভাজি। ভাত ডাল আনলিমিটেড আর মাছ অনুযায়ী দাম আপডাউন করে। ১০০-১৫০ এর মধ্যে চাইলে দুপুর/রাতের খাবার খেতে পারেন। আর সকালে নাস্তা ৫০-৬০ টাকায় হয়ে যাবে
.
এবার সবচেয়ে সাশ্রয়ী সাজেশন।পারত পক্ষে বন্ধের দিনে যাইয়েন না। ছুটি নিয়ে সাপ্তাহের মাঝে যান। সবকিছু অর্ধেকের চেয়েও কম দামে পাবেন প্লাস জায়গাটাও নিরিবিলি পাবেন।
.
লাস্ট, সেন্টমার্টিনে ময়লা ফেলার কোন নির্দিষ্ট জায়গা দেখি নি, এরমানে এইনা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে দিবেন। প্লাস্টিক প্যাকেট, পানির বোতলের কাজ শেষ হলে প্রয়োজনে হাতে/ব্যাগে রাখবেন, হোটেলে এসে ময়লার ঝুড়িতে ফেলবেন। নাহয়লে কয়দিন পরে আর প্রবাল দ্বীপ না, ময়লার দ্বীপ ভ্রমনে যেতে হবে।

Monday, 19 March 2018

কম খরচে ঘুরে আসুন সপ্নের কাশ্মির ও লেহ-লাদাখ ভারত ভ্রমন

স্বভাবগত ভাবেই এই জগতের সকল মানুস স্বপ্ন প্রিয়। নানান মানুষের বাহারি রকমের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে আজ সবার সামনে হাজির হয়েছি এমনি এক ট্যুর প্ল্যান নিয়ে। এই অধমের সল্প জ্ঞান ও অতি সামান্য অভিজ্ঞতার আলোকে এটি সাজানো হয়েছে। একটু মনযোগ দিয়ে পরবেন। আশা করি অনেকেই উপকৃত হবেন।


আপনারা হয়ত সবাই জানেন যে, Darjeeling, Kalimpong, Peling, Simla, Manali, Leh-Ladakh, Kargil, Kashmir পৃথিবীর বিখ্যাত ও সর্ব বৃহৎ Himalayan Mountains এর এক একটি অবিচ্ছেদ্দ অংশ যা কিনা ভারতবর্ষে বিরাজমান। তাই আপনি চাইলেই যেকোনো পথে কাশ্মির ও লেহ-লাদাখ যেতে পারেন। কিন্তু আমার মতে নিম্ন পথগুলি বেছে নেয়াটাই উত্তমঃ
রুট-১ ঢাকা-কালকাতা-দিল্লি-লেহ লাদাখ-কারগিল-কাশ্মির
রুট-২ ঢাকা-কালকাতা-দিল্লি-শ্রীনগর-কারগিল-লেহ লাদাখ
রুট-৩ ঢাকা-কালকাতা-দিল্লি-মানালি-লেহ লাদাখ-কারগিল-কাশ্মির
উপরিউক্ত রুটগুলর আলোকে আমার লেখনিকে সাজিয়েছি ৯টি পর্বে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, সবার budget এক না। টাই খরচের টুকিটাকি স্কিপ করে গেলাম। যারা যারা জানতে ইচ্ছুক কমেন্ট করে জানাবেন।
আজ শুধু রুট-১ পর্ব ১ নিয়েই লিখব। আপনাদের ভাল/খারাপ যাই লাগুক দয়া করে জানাবেন। আপনাদের response এর প্রেক্ষিতে পরের গুলো নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
প্রথমে ঢাকা থেকে কলকাতা চলে যান বাই বাস(এসি/নন এসি)/ট্রেন/এয়ার। সেখান থেকে দিল্লি বাই এয়ার অথবা ট্রেনে যাওয়াটাই ভাল। আপনি যদি কলকাতা বাই এয়ার এ যান তবে চেষ্টা করবেন দিনের শেষ ফ্লাইট নেয়ার। গ্রুপ এর সদস্য সংখ্যা যদি বেশি থাকে তবে এয়ারপোর্ট এই রাতটা কাটিয়ে দিতে পারেন গল্প গুজব আর হাসি ঠাট্টায়। এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিব কানে কানে। সাবধান ভুলেও কারো সাথে শেয়ার করবেন না। দিল্লি থেকে লেহ এয়ার টিকেট ভুলেও আগে কাটবেন না। সবচেয়ে ভাল হয় যাওয়ার এক দুইদিন আগে কাটলে সেক্ষেত্রে বহুত ফায়দা হবে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে......নিচের লিঙ্ক এ ঢুকে দেখতে পারেনঃ

মুহতারামে হাজেরিন, আশা করি আপনার সারা রাত অনেক আনন্দ বিনোদনেই কেটেছে। আপনার ফ্লাইট যদি খুব সকালে হয় তবে Indira Gandhi Intl Airport থেকে চলে যান Domestic এ। boarding pass নিয়ে security check in করে সোজা উঠে বসুন প্লেন এ। দিল্লি থকে লেহ প্রায় ২ ঘণ্টা । যদি সারারাত না ঘুমিয়ে থাকেন তবে ভুলেও এক মুহূর্ত এর জন্য হলেও চোখ বন্ধ করবেন না। আপনি হয়ত বিশ্বাস করবেন না যে কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। কিছুক্ষন পরেই প্লেন এর জানলা দিয়ে যে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে পারবেন… বরফ ঢাকা পাহাড় …… মনে হবে যেন ice cream এর দুনিয়া… কি যে সুন্দর… কি যে সুন্দর কিভাবে বুঝাই! একটু পরই ডান পাশে তাকালে কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যাবে Pangong লেক। প্লেন থেকে Pangong লেক এর ভিউ- মনে হবে যেন স্বর্গের জানলাটা খানিকক্ষণের জন্য খুলে গেলো । আপনার ভাগ্য যদি খুব বেশি ভাল থকে তবে peaks of K2, Nanga Parba, Gasherbrum দেখতে পারবেন। আমি হলফ করে বলতে পারি আপনি যদি সত্যি কার অর্থে একজন ভ্রমন পিপাসু হয়ে থাকে তবে পুরো লাদাখ ট্রিপ এক বিস্ময় এর ঘোর নিয়ে কেটে যাবে। লেহ Kushok Bakula Airport এক দেখার মত জিনিস। প্লেনটা এইখানে ল্যান্ড না করলে জীবনেও বিশ্বাস করবেন না কেউ যে এটাকে একটা এয়ারপোর্ট বলে। একটা ছোট্ট ঘর আর চারপাশে পাহাড় আর পাহাড়।

এয়ারপোর্ট এ কিছু formality শেষ করে একটা গাড়ি ভারা করে সোজা চলে যান হোটেলে। সেখানে check in করে নাস্তা খেয়ে কিছু সময় বিশাম নিন। তারপর প্রথমেই যে কাজ টা করবেন তা হল পরবর্তী দিনগুলোর জন্য একটা অনুমতি নেয়া। নুব্রা ভ্যালী আর Pangong লেক যেতে বাংলাদেশী দের একটা অনুমতি নিতে হয়। হোটেল থেকে বের হয়ে প্রথমেই যাবেন লেহ Palace এ । লেহ এর রাজার বাড়ি। সে এক “আট কুঠুরি নয় দরজা” type ব্যাপার। কত কত গলি ঘুপচি। লেহ প্যালেস ঘোরা হলে চলে যান শান্তি স্তুপা (peace pagoda)। দারুন জায়গা। অনেকটা দারজিলিং এর Japanese temple এর মত। ওখান থেকে লেহ এর দারুন panaromic ভিউ দেখা যায়। অবশেষে hall of fame দেখে স্থানীয় মার্কেটে কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করুন। লাদাখ এর একটা জিনিস খুব ভাল। ওখানে অনেকক্ষন দিনের আলো থাকে। এখানে সন্ধ্যা হয় প্রায় ৮ টার দিকে। এরপর হোটেলে ফিরে পরের দিনের প্ল্যান করে ফেলুন। গ্রুপে মানুষের সংখ্যা যদি বেশি থাকে তবে ভালো দেখে একটা গাড়ী ভাড়া করে ফেলুন। পাহাড়ি এলাকায় ড্রাইভার ভাল হওয়াটা ভীষণ জরুরী । সারারাত এয়ারপোর্ট এ নির্ঘুম রাত কাটিয়ে নিশ্চয় অনেক ক্লান্ত সবাই। তাই রাতের আহার শেষ করে নাক ডেকে একটা লম্বা ঘুম দিয়ে নিন।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে বের হয়ে যান । আজকের গন্তব্য......আরে বলছি তো একটু সবুর করুন। উপরে দিগন্তজোড়া আকাশ আর চারিদিকে উঁচু-নিচু পাহাড় আর পাহাড়। এ যেন এক অন্য রকম দুনিয়া। গাড়ি চলছে তো চলছেই আর হেমন্ত মুখপাদ্ধায় সেই বিখ্যাত গান......এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো। গাড়ি চলতে চলতে এরপর পেয়ে যাবেন পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু Motor driven road “Khardungla Pass” ৫,৬০২ মিটার (১৮,৩৪০ ফিট)। মন ভরে উপভোগ করুন সেই অপার সৌন্দর্য। এরপর আবার যাত্রা শুরু। একটু পর পথেই পাশেই পরবে Diskit Monestry. সেখানে কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করে আবার যাত্রা শুরু Nubra Valley র উদ্দেশে। যাত্রা পথে একটু পরেই পড়বে Hunder Village. সেখানে দুই কুজ ওয়ালা উট চড়ে ঘুরে বেড়ান বেশ কিছুক্ষন। পরিশেষে Nubra Valley তে এসে হোটেল এ চেক ইন করে রাতের খাবার খেয়ে নিন। হোটেলেই রাত্রিযাপন।
আজ তবে এততুকুই থাক। আপনাদের কারো কোন জিজ্ঞাসা,পরামর্শ থাকলে জানাতে দ্বিধাবোধ করবেন না।
বিদায় নিচ্ছি।
ভালো থাকুন। ভালো রাখুন।।

বগুড়া উত্তর বঙ্গের প্রাণ কেন্দ্র পুন্ড্র নগর মহাস্থানগড়


 পুন্ড্র নগরঃ বগুড়া উত্তর বঙ্গের প্রাণ কেন্দ্র

হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এই শহর বাংলাদেশের
প্রাচীন শহরগুলোর একটি।
মহাস্থান গড় (বাংলাদেশের প্রাচীন শহর)ঃ
মহাস্থানগড় প্রাচীন পুন্ড্রনগরী এর বর্তমান নাম।
মহাস্থানগড় বগুড়া জিলার শিবগঞ্জ থানার অন্তর্গত। এই
খানে ৪ হাজার বছরের পুরানো স্থাপনা আছে।
শক্তিশালী মাউর্যা, গুপ্ত এবং অন্যান্য রাজারা তাদের
প্রাদেশিক রাজধানী হিসাবে মহাস্থানগড় ব্যবহার
করতেন।পাল রাজাদের মূল রাজধানী হিসাবে
পুন্ড্রনগর ব্যবহৃত হয়েছে।এই বিশাল শহরের
ধংসস্তুপ করতোয়া নদীর পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত
যা সুধু বগুড়া নয় বরং গোটা বাংলাদেশের অতীত
ঐতিহ্য ধারন করে।


১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে “বুচানন হামিল্টন” প্রথম
পুন্ড্রনগরের ধংসাবসেস আবিস্কার করেন।
পরবর্তিতে ডন্নেল, কন্নিংহাম এই নগরী
সম্পর্কে বলেন। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীকে
মুসলিম শাসনামলের সম্পুর্ন স্বাধীন মুসলিমনগর
মহাস্থানগড়কে চিহ্নিত করেন স্যার কনিংহাম।
মাউর্যা,গুপ্ত,পাল এবং সেন বংশের প্রচুর চিহ্ন পুন্ড্র
তথা পুন্ড্রনগর এ আছে।কিন্তু আর্যান এর ভ্রমন এর
আগ পর্যন্ত এ গুলো অজানা ছিল। বরেন্দ্র অঞ্চল
(বগুড়া,রংপুর,দিনাজপুর,রাজশাহী,মালদাহ)ছিল পুন্ড্রদের
আসল বাসস্থান।
১৯৩১ সালে মহাস্থানকে প্রাচীন পুন্ড্রনগরী
হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।গুপ্ত রাজাদের পতন এর পর
রাজা শশাংক একটি শক্তিশালী রাজ্য পত্তন করেন।
শশাংকের মৃত্যুর পর বিখ্যাত চীনা ভ্রমনকারী ওয়ান
চুন ৬৯৩ সালে বৌদ্ধ স্থাপনা ভ্রমন এর জন্যে
পুন্ড্রনগর এ আসেন। তিনি সম্রাট অশক এর তৈরী
অনেক বৌদ্ধ মন্দির এবং আশ্রম দেখেন। তার বর্ননা
মতে, পুন্ড্র নগরী ছিল একটি সমৃদ্ধ নগরী এবং
এর আয়তন ছিল ছয় মাইল এর মত। এই জনপথ ছিল
অনেকটা এথেন্স,ব্যবলিওন,মিশর এর মত।
পুন্ড্রনগরী মহাস্থানগড় হয়ে ওঠে বাংলাদেশের
সমৃদ্ধশালী মুসলিম শাসনামলে।মহাস্থান এর আকর্ষণ
এর টিলার অপরে অবস্থিত মাজার।প্রতিদিন হাজার হাজার
মানুষ অনেক দূর থেকে এই স্থান ভ্রমন করতে
আসে। অনেক মানুষ তাদের “মানত” পূরণ
এর জন্যে এইখানে সমাগম করেন। এই জায়গা
মুসলমান,হিন্দু উভয় এর জন্যেই পবিত্রস্থান হিসাবে
বিবেচিত হয়।

কম খরচে সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটা

কম খরচে (২৫০০ টাকা মাত্র)আসুন সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটা থেকে.....
আমার কাছে এই মৌসুমটাই বেস্ট। কারণ এখন না শীত না গরম, সূর্য উদয় এবং অস্ত দেখা যাচ্ছে সুন্দরভাবে, সমুদ্রে ঢেউ আছে তবে সেটা ভয়ংকর কিছু নয়, পর্যটকদের এতটা ভীড়ও নেই, হোটেল ভাড়াও কম। প্রথমেই বলে রাখি ঢাকা থেকে বেশ কয়েকভাবেই কুয়াকাটা যাওয়া যায় তবে সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত হচ্ছে লঞ্চে যাওয়া। লঞ্চেও তিনভাবে যাওয়া কুয়াকাটা যাওয়া যায় তবে পটুয়াখালী হয়ে যাওয়া বেস্ট(আমার মতে)। যেহেতু পটুয়াখালী হয়ে যাওয়া বেস্ট (আমার মতে) তাই আমি এটার বর্ণনা দিচ্ছি।

#কিভাবে_যাবেন
সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী গামী লঞ্চে উঠুন। লঞ্চে ছেড়ে যায় বিকেল ৫-৬টার মধ্যে। ডেকের ভাড়া পড়বে ২০০-২৫০ টাকা। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০ টাকার মত। কম খরচে যেতে চাইলে স্টাফ কেবিনেও যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ১২০০-১৫০০ টাকার মত (স্টাফ কেবিন, ২-৩ জন ঘুমানো যাবে আরাম করে)। লঞ্চ পটুয়াখালী ভিড়বে সকাল ৫-৫:৩০ টার মধ্যে। ভোর হওয়াটা দেখতে পাবেন। কি সুন্দর নদী, নদীর পাড়, মাছ ধরার নৌকা, আস্তে রক্তিম সূর্য মামা উঁকি দিবে। আহা কি সুন্দর। এই সব কিছু দেখতে পাবেন বগা পাড় হওয়ার পর থেকে । অটো নিয়ে চলে আসুন বাস টার্মিনাল। ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা। কুয়াকাটা গামী বাসে উঠুন। কুয়াকাটা আসতে সময় লাগবে ১:৩০-২ ঘন্টা। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১২০-১৪০ টাকা।
কুয়াকাটা নেমে আগে হোটেল বুকিং দিন অথবা বিভিন্ন উৎসবে যাওয়ার আগে অবশ্যই আগে হোটেল বুকিং দিয়ে যাবেন। এখন পর্যটক কম তাই আপনি রুম পাবেন তবে কোন দালাল বা মোটর সাইকেল ওয়ালার খপ্পরে পড়বেন না। নিজে নিজে রুম দেখে বুকিং দিন। দর দাম করে নিন। দর দাম না করলে ঠকবেন। সিঙ্গেল রুম ৪০০-৬০০ টাকার মধ্যে পাবেন। ডাবল রুম ১০০০ টাকার মধ্যে পাবেন (৩-৪ জন এমনিতেই ঘুমানো যাবে।) সকাল ৮টার মধ্যে পৌঁছিয়ে যাবেন কুয়াকাটা।
#ঘুরাঘুরি
রুম বুকিং দিয়ে নাস্তা করে ঝাপিয়ে পড়ুন সমুদ্রে। আহা!!! কোন কথা হবে না খালি ডুব হবে। নাক, কান,চোখ,মুখ দিয়ে লোনা পানি ঢুকলেও ডুব চলবে। দুপুর একটার মধ্যে চলে আসুন হোটেলে। ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ুন। দুপুরের দিকে যেতে পারেন লেবুর বন, শুটকি পল্লী, ফিস ফ্রাই, তিন নদীর মোহনা, ঝিনুক বীচের দিকে। মোটর সাইকেলে যাবেন ভাড়া পড়বে ২০০ টাকার মত (দরদাম করে নিন)। ফিস ফ্রাই এ বসে সামুদ্রিক মাছ ভাজা/ কাঁকড়া খেতে পারেন। বিকেলে দিকে চলে আসুন কুয়াকাটার মেইন বীচের। সূর্য ডোবা দেখুন। চোখ জুড়িয়ে যাবে। বসে থাকুন যতক্ষণ খুশী অথবা রাখাইন মার্কেট থেকে ঘুরে আসতে পারেন। তার পরের দিন সূর্য উদয় দেখতে যাবেন। আগের দিনই মটর সাইকেল বুকিং দিয়ে রাখুন। সূর্য উদয় সহ বারোটি স্পট একবারে ঘুরে আসুন মটর সাইকেলে ভাড়া পড়বে ৪০০-৫০০ টাকার মত (অবশ্যই দামাদামি করবেন)। সূর্য উদয় দেখতে হলে রেডি হতে হবে ভোর ৫টার মধ্যে। ভোর বেলার সমুদ্র আপনাকে অন্য রকম একটা অনুভূতি দিবে। সূর্য উদয় সহ অন্যান্য স্পট দেখে কুয়াকাটা ফিরে আসবেন। রাখাইন পল্লীতে গিয়ে কিছু কিনতে পারেন এবং অবশ্যই মহুয়ার পাটিসাপটা পিঠা খেতে ভুলবেন না। ফিরে আসার সময় পড়বে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। দেখে আসতে ভুল করবেন না। কুয়াকাটা ফিরে আসতে আসতে সকাল ১০টার মত হয়ে যাবে। রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে আবার যান সমুদ্রে ঝাপাঝাপি করতে অথবা নৌকায় করে যেতে পারেন ফাত্রারার বন। ফাত্রারার বন যেতে চাইলে আগেই নৌকা বুকিং দিতে হবে। দুপুরে রুমে এসে নাস্তা করে হালকা শপিং করে নিতে পারেন।
#ফিরে_আসা
কুয়াকাটা থেকে সরাসরি বাস করে ঢাকা আসতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৫৫০টাকা। বাস ছেড়ে আসে ৫:৩০-৬:৩০ মধ্যে। বাসের টিকেট আগেই বুকিং দিন। অথবা কেউ যদি লঞ্চ আরামসে আসতে চান তাহলে তাকে ১:০০ একটার মধ্যে কুয়াকাটা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্য বাসে উঠতে হবে। বাস পটুয়াখালী আসবে ২:৩০-৩:০০ মধ্যে। পটুয়াখালী নেমে খাওয়া শেষ করে, কিছু খাবার পার্সেল করে নিয়ে লঞ্চে উঠুন। মনে রাখবেন পটুয়াখালী থেকে বিকাল ৫:০০-৫:১৫ মধ্যে সব লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে। তারমানে আপনাকে এর মধ্যেই সব আসতে হবে পটুয়াখালী।
#খরচ
২ দিন ১ রাত থাকা এবং ঢাকা থেকে যাওয়া আসা এবং খাওয়া মিলে আমার খরচ পড়ছে ২৫৩৯ টাকার মত (ফাতাত্রার বন সন ২৮৫৫টাকার মত)। আমরা ছিলাম তিনজনের গ্রুপ। তারমানে আপনি সিঙ্গেল হোন বা গ্রুপ ২৫০০-৩০০০ টাকার মধ্যে কুয়াকাটা ঘুরে আসতে পারবেন। তাহলে আর দেরী কেন? ঘুরে আসুন সমুদ্রকন্যার কাছ থেকে।
আর জানেন তো সমুদ্রের ডাক উপেক্ষা করা অনেক কঠিন

কম খরচে এক দিনের রাঙ্গামাটি আর কাপ্তাই ভ্রমন

ঢাকা থেকে ১৫০০/১৬০০ আর চট্রগ্রাম থেকে ৫০০ টাকা !!
(আমি ১৫০০/১৬০০ টাকা দিয়ে এসেছি একটু কষ্ট হবে কিন্তু কম টাকাই আর কি করা !!) 
আমার প্লেন যেহেতু আমি এভাবেই গিয়েছি !!
সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ মিনিটে গাবতলি থেকে হানিফ দিয়ে রাঙ্গামাটির বাসে , ভাড়া ৬২০ টাকা।খুব ভোরে চলে আসবেন।এসেই চলে যাবেন রাজবন বিহার দেখতে।নৌকা দিয়ে পারাপার জনপ্রতি ৫ টাকা।সিএনজি দিয়ে জনপ্রতি ১৫/২০ টাকা করে নিবে।তারপর ঝুলন্ত ব্রিজ চলে যান সিএনজি দিয়ে জনপ্রতি এখানেও ১৫/২০ টাকা করে নিবে। তবে ব্রিজে প্রবেশ ফি ২০ টাকা দিয়েই ব্রিজে উঠতে হবে।তার পর ১০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে চলে যান ডিসি বাংলো।
এবার পেটে কিছু দেয়ার পালা !! ( টাকা থাকলে আর ৪/৫ জন হন ৪০০/৫০০ টাকা নৌকা দিয়ে শুভলং যেতে পারেন )

তারপর চলে যান ২০ দিয়ে চলে যান বিহারিপল্লি থেকে চলে যান । সেখান থেকে ৮০ টাকা জনপ্রতি বা ৪০০ টা রিজাব করে যাবেন কাপ্তাই।রাস্তাটা অসম্ভব সুন্দর !! আপনি সিএনজি নিলে রাস্তার মাঝে কিছুক্ষন থামতে পারেন।কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক এ নেমে যেতে পারেন এটা ঘন্টা খানেক দেখে ২০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে কাপ্তাই শহরে যেতে পারেন !!শহরে গিয়ে কর্ণফুলী নদীর পারে মসজিদের সামনেই দেখবেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এর হোটেল দেখতে খুব ভাল না হলেই ৭০/৮০ টাকা দিয়ে ভালভাবেই খাবার খেতে পারেন। তারপর অনুমুতির জন্য চলে যান কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।অনুমুতি পেলে ঘুরে আসুন তবে ছবি তুলবেন না।তবে বাসের টিকিট টা কেটে নিয়ে ঢাকা অব্দি ৬২০ টাকা করে নিবে।
এবার ৭ঃ৩০ এর বাস দিয়ে ঢাকায় !!
খরচ ঃ (জনপ্রতি )
বাস ৬২০+৬২০ =১২৪০
সিএনজি ১২০/১৫০ টাকা
খাবার ৩০+৭০=১০০ টাকা
প্রবেশ ফি সব মিলিয়ে ৫০ টাকা
সব মিলিয়ে ১৫৪০ টাকা
চট্রগ্রাম থেকে গেলে বাস ভাড়া হবে ১০০ করে।
মানে ৫০০ টাকার ভিতর !
তবে ৪/৫ জন মিলে গেলে সুবিদা হবে।
বিস্তারিত কিছুই বলার নাই।যা জানার ছিল তার সব লিখার ট্রাই করেছি !