Monday, 19 March 2018

নারায়নগন্জ ডে ট্যুর

সকাল ৮.৩০ মিনিটের মধ্যে গুলিস্তান স্টেডিয়ামে সবাই মিলিত হলাম। ৮.৪০ মিনিটে বাস ছাড়লো উদ্দেশ্য ছিলো মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড। রাস্তায় জ্যামের কারনে প্রায় ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর পৌঁছালাম যাদুঘর রোড এক নাম্বার গেট। মোগড়া পাড়ার বাস স্ট্যান্ড ঠিক অাগের স্টপিজ। ওই খানে নামার কারন হলো এতে জ্যাম উপেক্ষা করে মোগড়া পাড়া যাওয়া সম্ভব ছিলো না। বাস থেকে নেমে হাল্কা নাস্তা করে রওনা দিলাম সোনারগাঁও যাদুঘর। টিকেট করে ডুকে পরলাম ভিতরে। দুপুর ১.২০ মিনিটে বের হয়ে চলে গেলাম অটো নিয়ে পানাম সিটি। টিকেট কেটে ডুকে পরলাম ভিতরে। পুরোনো স্থাপনা না দেখলে বুঝবেন না অাসলে কতো সুন্দর দেখলেই প্রান জুড়িয়ে যায়। পানাম সিটি থেকে বের হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম পানাম সিটির সামনে থেকেই। মোটা মুটি অনেক গুলো ভালো হোটেল অাছে। 

দুপুরের খাবার শেষ করে অটো রিজার্ভ নিয়ে চলে গেলাম বৈদ্দ্যের বাজার। ঘাটে গিয়ে ট্রলার ভাড়া করলাম মায়াদ্বীপের উদ্দেশ্য। ট্রলার চলতে শুরু করলো ২০ মিনিট পৌঁছে গেলো মায়াদ্বীপ। অনেকেই গোসল করলো কেউ কেউ পা ভিজিয়ে নিলো নদীর শীতল জলে।
কিছু সময় থেকে চলে অাসলাম অাবার বৈদ্দ্যের বাজার। তার সিএনজি করে চলে অাসলাম মোগড়া পাড়া চৌরাস্তা। বিকাল ৫ টায় দোয়েল বাসে করে রওনা দিলাম। ৫.৪০ মিনিটে পৌঁছে গেলাম গুলিস্তান।
এই ছিলে অামাদের অার একটি ডে ট্রিপের ভ্রমন কথা।
বিঃদ্রঃ
যেখানে সেখানে অার্বজনা ফেলে স্থান নোংরা করবেন না।
নিজেকে বদলান অাপনার দেখাদেখি অন্যরা বদলে যাবে।

পাহাড় পর্বত, ঝর্না, সমুদ্র সৈকত, ঝর্না, ট্রেইল, ইকো পার্ক সবি আছে।

"দুর্গম গিরি কান্তার মরু
দুস্তর পারাবার হে!
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে,
যাত্রীরা হুশিয়ার"
বাংলাদেশের অনেক সৌন্দর্যের আবাস চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলা। সৌন্দর্যময় এই উপজেলায় প্রকৃতির সব কিছুই আছে।
কি নেই তাতে??
পাহাড় পর্বত,
ঝর্না,
সমুদ্র সৈকত,
ঝর্না,
ট্রেইল,
ইকো পার্ক।



সবি আছে।
প্রকৃতির সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে নিখুঁতভাবে এর বিস্তার।
একটুকরো সীতাকুন্ডের এবারের ভ্রমন সোনাইছড়ি ট্রেইল। সীতাকুন্ডের ট্রেইল গুলোর মধ্যে একে বলা হয় ডেথজোন। বর্ষাকালে এর ভয়াবহতা দেখা যায় চরমভাবে।
পাথুরে এই ট্রেইলে বড় বড় পাথরের ঢল, পাহাড়ি সৌন্দর্য আসলেই মনোমুগ্ধকর। মন হারিয়ে যায় এক অজানা রাজ্যে। পাথুরে মনে তখন বেঝে উঠেঃ
"ঝরনা তাহার সহজ গানে
গান জাগালো আমার প্রানে,
আপন কাজে কঠোর হতে
পাষাণ দিলো দিক্ষা"
সোনাইছড়ি ট্রেইল শেষে খাওয়া ধাওয়া করে কর চলে যাই গুলিয়াখালি সি বিচে। শান্ত পরিবেশ সারাদিনের ধকল কে নিমেষেই ম্লান করে দেয়।
কেউ চাইলে চন্দ্রনাথ পাহাড় টাও কভার করতে পারেন একি দিনে। যদি ওও আমাদের কাছে বিচে বসে সময় উপভোগ করাটাই ভালো লেগেছে।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মেইল ট্রেইন সীতাকুন্ড > সীতাকুন্ড বাজার থেকে হাদী ফকিরহাট বাসে > সোনাইছড়ি ট্রেইল > হাদি ফকিরহাট > সীতাকুন্ড বাজার লেগুনা > মুরাদপুর সি বিচ বা গুলিয়াখালি সি বিচ ট্যাক্সি > সীতাকুন্ড বাজার ট্যাক্সি > ফেনী বাস > ঢাকা বাস
ভরপেট দুপুরের খাবার, সকালের নাস্তা, সন্ধ্যার মুড়ি ভর্তা + ভরপেট লুচি ডাল, যাতায়াত খরচ, গাইড খরচ সহ আমাদের সাত জনের পার হেড ৬৪০ টাকা খরচ হয়েছে।
খরচাপাতিঃ
#ঢাকা থেকে সীতাকুন্ড মেইল ট্রেইন ভাড়া ১০০ টাকা
#সকালের নাস্তার খরচ
#সীতাকুণ্ড বাজার থেকে হাদীফকিরহাট বাস/লেগুনা ভাড়া ১৫-২০ টাকা
#গাইড খরচ ৪০০ টাকা
#দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ টাকা
#হাদীফকিরহাট থেকে সীতাকুন্ড বাজার বাস/লেগুনা ভাড়া ১৫-২০ টাকা
#সীতাকুন্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি সি বিচ জন প্রতি ৩০ টাকা
#গুলিয়াখালি থেকে সীতাকুন্ড বাজার জন প্রতি ৩০ টাকা
#সন্ধ্যার নাস্তার খরচ
#সীতাকুন্ড বাজার থেকে ফেনী বাসে ৫০ টাকা
#ফেনী থেকে ঢাকা ২৭০ টাকা
#যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ম্লান করবেন না। এ কাজ থেকে বিরত থাকুন 

Sunday, 18 March 2018

ইলিশের বাড়ি চাদপুর

গত শুক্রবার আমরা ছয় জন মিলে ঘুরে আসলাম ইলিশের বাড়ি চাদপুর। একদিনের ট্যুর হিসেবে চাঁদপুর আদর্শ জায়গা।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা সদরঘাট থেকে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লঞ্চ ছেড়ে যায় চাদপুরের দিকে। লঞ্চের ভাড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকা এর মধ্যে। যদি একদিনের ট্যুরে যান তবে ওখানে গিয়েই ফিরতি লঞ্চ এর খোজ জেনে রাখতে পারেন। লাস্ট লঞ্চ সম্ভবত সন্ধ্যা ৭ টায় ঢাকার দিকে ছেড়ে আসে। যেতে বা আসতে সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মত। সে হিসেবে সকালে সাত টায় ঢাকা থেকে গেলে রাত ১১ টার আগেই আবার ঢাকায় থাকবেন।
খরচাপাতি
এই ট্যুরটা তে খরচ হবে টোটাল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এর মত। চাইলে এর থেকে কমেও ট্যুর দিয়ে আসতে পারবেন। চাদপুর শহরের মধ্যে অটো ভাড়া ৫ থেকে ১০ টাকার মত। উঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন। একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে এপ্রিল এর ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ। এই সময়ে গেলে হয়ত সেভাবে ইলিশ খাওয়া নাও হতে পারে।দালাল বাজার জমিদার বাড়ি সিএনজি নিয়ে যেতে খরচ হবে ১৩০ টাকা। এছাড়া বাসেও যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে খরচ হবে ৪০ টাকার মত।

খাবারদাবার
যদি সকালেই জমিদার বাড়ি দেখতে যান তাহলে সকালের নাস্তা রায়পুরে করতে পারেন মোহাম্মাদীয়া হোটেল এ। খুব ভাল মানের সুস্বাদু খাবার কম দামে পাবেন। যারা মিষ্টি পাগল তারা হয়ত ঘণ্টা খানেক খেতেই থাকবেন গরম মিষ্টি। আসার আগে অটো ভাড়া নিয়ে চলে যান বাজারের দিকে খুজুন “ওয়ান মিনিট” মিষ্টির দোকান। ৪০ টাকায় একটি আইসক্রিম অবস্যই খেয়ে আসবেন। না হলে ট্যুর অপূর্ণ থেকে যাবে।
মেঘনায় নৌকা ভ্রমন
এই ট্যুরে আপনি নৌ বিহারের মজা পাবেন। সময়মত গেলে পাবেন তাজা ইলিশ ভাজা খেতে। পারবেন মেঘনা নদীর মোহনা তে নৌকা নিয়ে ঘুরতে। প্রমত্ত মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা চরে ঘুরতে পারবেন মাত্র ৫০ টাকা প্রতিজন। চাঁদপুরের আসে পাশে ঘোরার জন্য আছে কয়েকটি জমিদার বাড়ি, তার মধ্য দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, রূপসা জমিদার বাড়ি অন্যতম, সময় নিয়ে গেলে রায়পুর ফিসারিজ সেন্টার, লোহাগড় মঠ ঘুরে আস আসতে পারেন। সারাদিন ঘুরে বিকেলবেলা টা কাটাবেন মুলহেডে মেঘনা নদীর মোহনা তে। এই জায়গা টি বড় স্টেশন বাজার নামেও পরিচিত। এখানে মেঘনার বুকে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে একটা মায়াবি আবহে জড়িয়ে পরবেন।
পরিবেশ সচেতনতা
যেখানে যান পরিবেশ সংরক্ষনের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। আপনার ব্যাবহার করা চিপ্সের প্যাকেট, পানির বোতল নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন। আমাদের একটু সচেতনতা বদলে দিতে পারে এই দেশ।

প্রকৃতির ব্যতিক্রমী সৃষ্টি জাফলং ও বিসানাকান্দি সিলেট

বরাবরই সিলেট আমার খুবই প্রিয়। সর্ব সাকুল্যে পাঁচ বারের যাত্রায় চোদ্দ দিন সিলেট ঘোরার সুযোগ হয়েছে। তবে সিলেটের সবটুকু দেখা শেষ হয়নি এখনো। তবে, ঘোরার জন্য বর্ষাকাল নিঃসেন্দহে উত্তম সময়। অফসিজনে হোটেল ভাড়া কম পড়বে। পাশাপাশি, পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে। তাই প্রকৃতির সান্নিধ্যে একান্তভাবে সময় কাটানোর সুযোগ বেশি। আর বর্ষাকালে প্রকৃতি যেন নবযৌবনা। আজকের লেখাটির উদ্দেশ্যে হচ্ছে দু'দিনের জন্য যদি সিলেট ভ্রমণে যেতে চান তবে আপনার জন্য এটা একটা সাধরণ গাইডলাইন হতে পারে।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট : প্রকৃতির ব্যতিক্রমী সৃষ্টি রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। বর্ষাকালে পানিতে নিমজ্জিত হিজল, খরচ, বেত, বরুনা আর মূর্তার ঘন ঝোপে আচ্ছাদিত থাকে উপমহাদেশের একমাত্র মিঠাপানির এই জলাবনটি। নিঃশব্দে নৌকাতে ঘুরে অপরূপ প্রকৃতির শীতল বাতাস আর পাখির কলতান আপনাকে বিমোহিত করবেই। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই জলাবনটি। সিলেট শহরের আম্বরখানা রোডের ইস্টার্ন প্লাজার সামনে থেকে লোকাল সিএনজিতে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি 100 টাকার মতো। আর নৌকাতে ভাড়া পড়বে সাতশো থেকে আটশো টাকার মতো। তবে এক নৌকাতে চারজন ঘুরতে পারবেন অনায়াসে।
রাতারগুল ঘোরা শেষে বিসানাকান্দি যেতে হলে আপনাকে এরপর হাদারপার যেতে হবে।

বিসানাকান্দি : মেঘালয় রাজ্যের সাতটি সুউচ্চ পর্বতের মিলনস্থল হচ্ছে বিসানাকান্দি যেখানে অনেকগুলো ঝরণাধারার মিলিত প্রবাহ প্রবল বেগে আছড়ে পড়ে স্নিগ্ধ পিয়াইন নদীর বুকে। শীতল এই স্রোতধারার স্বর্গীয় পাথুরে বিছানায় পাবেন প্রকৃতির মনোরম লাবণ্যের স্পর্শ। পিয়াইন নদীর দুইটি শাখা। একটি পাহাড়ের নীচ দিয়ে গেছে ভোলাগঞ্জ অন্যটি পাংথুমাই হয়ে জাফলং। তবে, হাদারপার থেকে নৌকা ঠিক করার সময় সাধারণত তিনটি স্পটে র জন্য নৌকা ঠিক করা হয়। বড়হিল ঝর্ণা (পাংথুমাই ঝর্ণা), লক্ষণছড়া আর বিসানাকান্দি। তবে, বর্ষাকালে ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা ঠিক করবেন। কেননা, শান্ত পিয়াইন নদী তখন প্রবল স্রোতে অশান্ত হয়ে যায়। আর, এখানে লাইফ সেভিং জ্যাকেট বা এরকম কিছু না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অতঃপর ঘোরা শেষ হলে আবার সিলেট ফিরে আসবেন।

জাফলং : পাহাড় আর পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর অপূর্ব মিলনে সৃষ্ট নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এক তীর্থ ভূমি জাফলং। ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং যা সিলেট শহর থেকে 62 কিলোমিটার দূরবর্তী। দূর থেকে দেখলে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সব পাহাড়গুলো, তার বুক চিরে বয়ে চলেছে ঝর্ণা আর নরম তুলার মতো তার ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘমালা। জাফলংয়ের বুক চিরে বয়ে গেছে দুইটি নদী - ধলাই ও পিয়াইন। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে চোখে পড়বে ডাউকি ব্রীজ। নদী পার হলেই ওপারে খাসিয়াপুঞ্জি (খাসিয়াদের ভাষায় গ্রামকে পুঞ্জি বলে)। সংগ্রামপুঞ্জি যাওয়ার পথে দেশের প্রথম সমতল চা-বাগানটিও একফাকে দেখে নিতে পারেন। জাফলং শীত, বর্ষা দুই ঋতুতেই সুন্দর। তবে বর্ষাকালে পরিপূর্ণ, অন্তত আমর চোখে।

অতঃপর জাফলং থেকে সিলেট ফেরার পথে সারিঘাট নামবেন। এখান থেকে সিএনজি তে করেই সারি নদীর ঘাটে (লালাখাল) যাবেন।

লালাখাল : সিলেট শহর থেকে 35 কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত লালাখাল। নাম যদিও "লালাখাল" কিন্তু এটা কোনো খাল নয়। এটা সারি নদী। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে লালাখালের অবস্থান। লালাখাল শীতকালে ই তার সবটুকু সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়। সারি নদীর গভীরতা অনেক বেশি। তাই বর্ষাকালে নদীতে তীব্র স্রোত থাকে। পাশাপাশি লালাখালের বিশেষত্ব যে কারণে, সেই পানির বিভিন্ন রঙ (নীল, সবুজ, স্বচ্ছ পানি) বর্ষাকালে পাবেন না। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে যদি আলিঙ্গন করতে চান তবে লালাখাল নিঃসেন্দহে আপনাকে বিমোহিত করবে এবং সেটি বর্ষাকালে।

Saturday, 17 March 2018

কম খরচে ভারতে দার্জিলিং ভ্রমণ

দার্জিলিং, বাঙালির স্বল্প সময়ে, সহজে আর স্বল্প ব্যায়ে ভ্রমণের এক অপূর্ব যায়গা। কিন্তু তাই বলে এতো কম খরচে যে পরিবার নিয়ে দার্জিলিং বেড়িয়ে আসতে পারবো ভাবনাতেই ছিলোনা। একা বা বন্ধু-বান্ধব মিলে গেলে আলাদা ব্যাপার। কিন্তু পরিবার নিয়েও যে এতো কম খরচে ঘুরে আসা যায় ছোট্ট ছোট্ট কিছু টেকনিক ফলো করলে আর সাথে বিলাসিতাটা একটু কমালে সেটা এবার ভালোভাবে সিখে এলাম। এবং সেই অল্প খরচে এমন একটা ভ্রমণের পরে টিমের সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এরপর ভারতের যে কোন যায়গায় বেড়াতে গেলে, এই টেকনিকটাই ফলো করবো। তাতে করে অনেক কম টাকায় বেশ ভালোভাবে ঘুরে আসা যাবে।
গত ডিসেম্বরে আমরা তিন পরিবার মিলে গিয়েছিলাম ডুয়ার্স আর দার্জিলিং। ভ্রমণ শেষে খরচের হিসেব করে দেখতে পেলাম, পরিবার প্রতি, পাঁচদিনে মোট খরচ হয়েছে ১৫০০০ টাকা করে! অবিশ্বাস ঠেকেছে প্রথমে হিসেব দেখে, মনে করেছি কোথাও বোধয় ভুল করেছি হিসেবে, তাই অন্য আর একজনকে দিয়ে হিসেব করে দেখলাম নাহ, ঠিকই আছে হিসেব।

মাত্র ১৫০০০/- টাকা খরচ হয়েছে আমাদের তিনজনের পুরো ডুয়ার্স-দার্জিলিং এর যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া আর বিভিন্ন যায়গায় ঘোরাসহ। তবে আফসোস এই খরচটা আরও কমে যেত যদি রংপুর গিয়ে আলাদা মাইক্রো না নিতে হত, বুড়িমারির বাসের টিকেট পাইনি বলে এখানে আমাদের ২৫০০ টাকা বেশী খরচ হয়ে গেছে।
এবার তবে এই গল্পে অন্য কোন কিছুর বর্ণনা বাদ দিয়ে শুধু পুরো ট্রিপের খরচের গল্পটা বলি, কোথাও, কিভাবে আর কত খরচ করেছি আমরা।
ঢাকা থেকে আমরা নন এসি বাসে ৫৫০ টাকা করে বাস ভাড়া দিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। তিন জনের ১৬৫০/- টাকা। রংপুর থেকে ২৫০০ টাকায় মাইক্রো ভাড়া করে দুই ঘণ্টায় বুড়িমারি বন্দর।
পরিবার প্রতি ৮০০ টাকার একটু বেশী। জনপ্রতি ট্র্যাভেল ট্যাক্স দেয়াই ছিল তাই সময় নষ্ট কম হয়েছে। বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বেলা শেষ হয়ে যাওয়া আর ডুয়ার্স আগে যেহেতু যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই তাই ঝুঁকি না নিয়ে একটি জীপ নিলাম ১৫০০ রুপী দিয়ে। পরিবার প্রতি ৫০০ টাকা পড়লো ডুয়ার্স এর লাটাগুড়ি অরণ্যে পৌছাতে।
লাটাগুড়ির নির্জন অরণ্যে পৌছাতে প্রায় রাত হয়ে গিয়েছিল আমাদের। সাথে ছোট বাচ্চা আর ফিমেল মেম্বার ছিল বলে সোনার বাংলা রিসোর্টের এক রুমেই উঠতে হয়েছিল সেদিন দুইটি ডাবল বেড আর একটি ফ্লোর ম্যাট সাথে পর্যাপ্ত বালিস আর কম্বল দেয়াতে আরেমেই কাটিয়েছিলাম সে রাত। ভাড়া পরেছিল ১৮০০ রুপী। মানে প্রতি পরিবারের ৬০০ রুপী। আর কেউই যেহেতু হানিমুন কাপল ছিলামনা সেহেতু কারোই সমস্যা হয়নি এক রুমেই শেয়ার করে থাকাতে। এরপর দিন থেকেই বাজেট আমাদের ধারনার চেয়ে কমতে শুরু করলো।
লাটাগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং যাবার দুটি উপায় ২৫০০-৩০০০ টাকার জীপ ভাড়া করে প্রথমে শিলিগুড়ি আর তারপর আবার জীপে ১৬০০ অথবা জনপ্রতি ১৫০ রুপী করে দার্জিলিং। দ্বিতীয় উপায় হল লাটাগুড়ি স্টেশন থেকে ২০ রুপীর টিকেট কেটে, ডুয়ার্সের অরণ্যের রূপ দেখতে দেখতে শিলিগুড়ি স্টেশন। তারপর দার্জিলিং রিজার্ভ বা শেয়ার জীপে। আমরা দ্বিতীয়টা বেছে নেয়ায় প্রবার প্রতি খরচ বেঁচে গিয়েছিল ১০০০ টাকা করে।
দার্জিলিং এ প্রথম দিনের রুম ভাড়া ছিল ১০০০ রুপী করে আর দ্বিতীয় দিন চমৎকার হোটেলে খোলা বারান্দাসহ রুম ভাড়া ১৩০০ রুপী করে। দার্জিলিং থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি জীপ পেয়েছিলাম ৩৫০০ রুপীতে, পরিবার প্রতি প্রায় ১২০০ রুপী।
শিলিগুড়িতে ভালো মানের ডাবল রুম পেয়েছিলাম ৯০০ রুপীতে। আর একদিন থেকে সকালে ৩০০০-৩৫০০ টাকায় জীপ রিজার্ভ বা করে একটু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ৬০ টাকা করে সরকারী বাসে উঠে চ্যাংরাবান্দা বাইপাস পর্যন্ত এসে, ৩০ টাকা করে টোটো ভাড়া দিয়ে বর্ডারে। বর্ডার পার হয়ে ৬০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে ঢাকায়। বাস থেকে নেমে ১২০ টাকা সিএনজি ভাড়া করে মিরপুর-২।
এই হল যাওয়া-আসা, থাকা-বেড়ানোর খরচ। এবার আসা যাক খাবারের খরচে। ঢাকা থেকে রাতের বাসে ওঠাতে রাতের খাবারটা বাসা থেকেই খেয়ে বাসে ওঠা গেছে। সকালে রংপুরে নাস্তা জনপ্রতি ২০ টাকা পরোটা দুইটা আর এর একটা করে ডিম, পানি নিজেদের সাথেই ছিল পর্যাপ্ত। দুপুরে ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে বুড়ির হোটেলে খাওয়া। রাতে লাটাগুড়ি বাজারে অমলেট আর পরাটা ৪০ রুপী করে জন প্রতি আর বাচ্চাদের জন্য ৮০ রুপীর চিকেন বিরিয়ানি সাথে সবার জন্য লিমকা। পরিবার প্রতি সকাল-দুপুর আর রাতে খরচ হয়েছিল ৬০০ টাকার মত।
দার্জিলিং এ সব সময় খাবার জন্য আমার পছন্দ মসজিদের গলিতে অবস্থিত ইসলামিয়া হোটেল ভাত আর মাংস খাওয়া যায় জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আমাদের প্রতি বেলায় পরিবার প্রতি খরচ হয়েছিল ২৫-৪৫ টাকা করে গড়ে ৩০০ টাকা। দুই দিনের শুধু দার্জিলিং এর খাবারের খরচ ৪০০ টাকা আর অন্যান্য খাবার নিয়ে আরও ২০০, মোট ৬০০ টাকা। দুই দিনে গড়ে ১০০০ টাকা। আর দার্জিলিং থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়িতে যেতে পথে নাস্তা আর শুকনা খাবারে খরচ হয়েছে ২০০ টাকা পরিবার প্রতি।
শিলিগুড়ি গিয়ে হোটেলে ফ্রেস হয়ে, আমাদের সব সময়ের শেষ দিনের মেগা ডিনার কেএফসিতে। জনপ্রতি ১২০ টাকায় ভরপুর রাইস আর চিকেন মিল। বাইরে বেরিয়ে ২০ টাকার ঠাণ্ডা লিমকায় চুমুক। হোটেলের পাশ থেকে মধ্যরাতে ৫ রুপীর চা আর ৫ রুপীর বিস্কিট, পথে বসে আর হেটে হেটে। সকালে হোটেলের পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে গরম গরম লুচি আর আলুর দম দিয়ে ১০ রুপীর নাস্তা সেরে বাসে উঠে বর্ডারে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বুড়ির হোটেলে ১০০ টাকা করে ভাত-ডাল আর মাছ বা মাংস, যার যেটা পছন্দ।

পথে লালমনিরহাট আর রংপুরে একটু চা আর ডিম সেদ্ধ খেয়ে ঘুম। সকালে ঢাকা। ব্যাস সফর শেষ হয়ে গেল নিতান্ত কম খরচেই।
এবার তবে টোটাল খরচের তালিকাতা ঝটপট দেখে নেয়া যাক কত করে খরচ হয়েছে পরিবার প্রতি, ৫ দিনের ডুয়ার্স- দার্জিলিং ভ্রমণের।
ঢাকা-রংপুর বাস ভাড়া ১৬৫০/- (তিন জনের পরিবার)
নাস্তা- ৬০/-
রংপুর-বুড়িমারি মাইক্রো ভাড়া ১০০০/-
দুপুরের খাবার রাউনড-৩০০/-
ট্র্যাভেল ত্যাক্স-১৫০০/-
চ্যাংরাবান্দা-লাটাগুড়ি জীপ ভাড়া ৬০০/-
লাটাগুড়িতে রুম ভাড়া সেয়ারে-৭০০/-
লাটাগুড়িতে রাতের খাবার ১৮০/-
লাটাগুড়ি-শিলিগুড়ি ট্রেনভাড়া ৭৫/-
শিলিগুড়ি-দার্জিলিং জীপ ভাড়া ৬০০/-
দার্জিলিং এ রুম ভাড়া প্রথম রাত ১৫০০/-
রাতের খাবার ১৫০/-
সকালের নাস্তা ৭৫/-
দ্বিতীয় দিনের রুমভাড়া ১৫০০/-
দুপুরের খাবার ২০০/-
রাতের খাবার- ২০০/-
পরদিন সকালের নাস্তা ১০০/-
অন্যান্য খাবার ২০০/-
দার্জিলিং থেকে কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়ি জীপ ভাড়া ১৫০০/-
পথে খাবার ২০০/-
রাতের খাবার ৫০০/-
হোটেল ভাড়া ১১০০/-
সকালের নাস্তা ৫০/-
বাস ভাড়া- ২০০/-
টোটো ভাড়া- ১০০/-
দুপুরের খাবার ৩০০/-
বাস ভাড়া ১৮০০/-
রাতের হালকা খাবার ১০০/-
সিএনজি ভাড়া ১২০/-
মোটঃ ১৬৫৬০/- টাকা
এবার প্রশ্ন আসতে পারে ১৬৫৬০/- টাকাকে কেন ১৫০০০/- টাকা বললাম?
বললাম এই কারনে যে ১৫০০ তিন জনের ভ্রমণ ট্যাক্স। ভ্রমণ ট্যাক্সকে আমি ভ্রমণ খরচের আওতাও ধরিনা, কারন এটা ফিক্সড কষ্ট, যেমন পাসপোর্ট ও ভিসা করার খরচ, যেটা বাধ্যতামূলক এবং সরকার নির্ধারিত খরচ সেটা তো সবাইকেই সমান ভাবে দিতেই হবে। আমার মতে ভ্রমণ খরচ বলতে আমি সেই খরচকেই বুঝি যেটা আপনি, আমি চাইলেই নিজেদের ইচ্ছা, পছন্দ, রুচি আর সাধ ও সাধ্যমত কমাতে বা বাড়াতে পারবো। সেটাই একচুয়াল ভ্রমণ খরচ। এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যাক্তিগত মত, ভিন্নমত থাকতেই পারে।
তো এই হল আমাদের সর্বশেষ ডুয়ার্স-দার্জিলিং ভ্রমণের অবাক করা খরচ, যেটা আমাদের নির্ধারিত বাজেটের চেয়েও কম। মাত্র ১৫০০০ টাকায় পুরো পরিবারের ৫ দিনের ডুয়ার্স-দার্জিলিং ভ্রমণের খতিয়ান।
সুতরাং ভারতের যে কোন যায়গা ভ্রমণে যদি রিজার্ভ জীপ না নিয়ে ওদের ষ্টেট ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন আর থাকার ক্ষেত্রে রুম শেয়ার করার মানসিকতা থাকে তাহলে খরচ অনেক কমে যায়। পাশাপাশি আমরা আরও যেটা করে থাকি, সকালে ভালো করে নাস্তা করি, দুপুরে ভাত বা ভারী খাবার খেয়ে সময় নষ্ট না করে শুকনো খাবার খেয়ে সারাদিন ঘুরেফিরে সন্ধ্যা বা রাতে ভালো করে ডিনার করে রুমে ফিরি। তাতে করে সময় বাঁচে আর বাঁচে খরচও।

আপনি কিভাবে ঘুরবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার, ভালোলাগা সাধ আর সাধ্যের ব্যাপার। আমার এভাবে ঘুরে বেড়াতে ভালোলাগে।
আমি এভাবেই খুব কম খরচে ঘুরি, এটাই আমার আনন্দ, আমার ভালোলাগা আর ঘুরে এসে মনের মাধুরী দিয়ে সেসব অনুভূতি গুলো লিখে শেয়ার করা, আমার ভালোবাসা।
সবাই ভালো থাকুন, সবার ভ্রমণ সুন্দর আর আনন্দঘন হোক, সেই প্রত্যাশায়।
সকল ভ্রমণে পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।

লেখাটি কপি করা(
Sajol Zahid)